চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে সরকারি পদে নিয়োগ না থাকা এবং বিসিএস ক্যাডার না হয়েও এক বেসরকারি চিকিৎসককে ‘বিশেষ সুবিধায়’ রোগী দেখার সুযোগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিন বছর ধরে এ সুবিধা নেয়া চিকিৎসক ডা: ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি হাসপাতালে বসে বিনামূল্যে সেবা দেয়ার আড়ালে নিজের ক্লিনিকে রোগী ভাগিয়ে নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা শহরের বাসিন্দা ডা: ফারুক হোসেন এমবিবিএস ডিগ্রিধারী হলেও তিনি সরকারি চিকিৎসক নন। সদর হাসপাতালে তার কোনো দাফরিক পদও নেই। এরপরও প্রায় তিন বছর ধরে তার ব্যবহারের জন্য হাসপাতালের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) কক্ষ বরাদ্দ রয়েছে।
হাসপাতালটিতে চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের সরকারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি একজন চিকিৎসককে এমন সুযোগ দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় কয়েকজন বেসরকারি চিকিৎসক স্বেচ্ছায় বিনামূল্যে সেবা দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও তাদের অনুমতি দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, সরকারি কোনো পদে না থেকেও ফারুক হোসেন কোন এখতিয়ারে সরকারি হাসপাতালে বসেন, তা বোধগম্য নয়। তার অভিযোগ, সরকারি প্রতিষ্ঠানে বসে নিজের মালিকানাধীন লাভলী টাওয়ারের ক্লিনিকে রোগী পাঠানোর সুযোগ দেয়া নীতিবহির্ভূত।
একজন অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসকের অভিযোগ, ফারুক হোসেন মূলত ব্যক্তিস্বার্থ ও ব্যবসায়িক কারণে হাসপাতাল থেকে রোগী নিজের ক্লিনিকে নিয়ে যান।
অভিযোগের বিষয়ে ডা: ফারুক হোসেন বলেন, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের লিখিত আদেশের ভিত্তিতেই তিনি সদর হাসপাতালে রোগী দেখেন। তবে ওই লিখিত অনুমোদনের কোনো কপি তিনি দেখাতে পারেননি।
একজন বেসরকারি চিকিৎসককে কিসের ভিত্তিতে এবং কোন আদেশে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হাসপাতালে রোগী দেখার সুযোগ দেয়া হয়েছে, জানতে চাইলে সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।



