হাসির মাঝে কি রহস্য লুকিয়ে

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

প্রতিদিনের ব্যস্ততা আর চাপের ভিড়ে মানুষ যখন ক্লান্ত তখন সহজ এক সমাধান হিসেবে সামনে আসে হাসি। হাসির প্রভাব শুধু মুখেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি শরীর ও মনের ওপর গভীর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে গবেষকরা বলছেন। প্রাণ খুলে হাসলে শরীরের স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা কমে যায় এবং এন্ডোরফিন নিঃসরণ বাড়ে যা মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। একই সাথে এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং হৃদরোগের ঝুঁঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে।

গবেষণায় আরো জানা গেছে প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিট হাসলে শরীর থেকে প্রায় ৪০ ক্যালোরি পর্যন্ত ক্ষয় হতে পারে। পাশাপাশি হাসি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং গ্লুকোজ সহনশীলতা বাড়ায়। সামাজিক ক্ষেত্রেও এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ কারণ হাসি মানুষের মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ় করে এবং ভ্রাতৃত্ববোধ জাগিয়ে তোলে।

‘হাসিই মহৌষধ’-এ বিশ্বাসকে ধারণ করে ১৯৯৮ সাল থেকে স্বাস্থ্য সুখ এবং বিশ্বশান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে মে মাসের প্রথম রোববার পালিত হয়ে আসছে হাসি দিবস হিসেবে। দিবসটির সূচনা করেন ভারতের ডা: মদন কাটারিয়া। বর্তমানে ১০৫টিরও বেশি দেশে হাজার হাজার লাফটার ক্লাব এ উদ্যোগের সাথে যুক্ত রয়েছে।

দিবসটির মূল কথা একটাই মানুষ যদি হাসতে শেখে তবে সে নিজেও বদলায় আর তার চারপাশও বদলে যায়। বর্তমান অস্থির সময়ে ঘৃণা ও নেতিবাচকতার ভিড়ে হাসিই হতে পারে ভালোবাসা ও সহমর্মিতার সবচেয়ে সহজ পথ। তাই আজ কোনো কারণ ছাড়াই প্রাণ খুলে হাসুন এবং অন্যদের মাঝেও সেই আনন্দ ছড়িয়ে দিন।