ডিমলা (নীলফামারী) সংবাদদাতা
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানীর নেতৃত্বে মন্ত্রীদের ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হঠাৎ উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
গতকাল শনিবার সকাল ৬টায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২.১০ মিটার। বিপদসীমা ৫২.১৫ মিটার হওয়ায় নদীটি মাত্র ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটই খুলে দেয়া হয়েছে। উজান থেকে হঠাৎ নেমে আসা পানির প্রবাহ বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পাউবো কর্মকর্তারা।
এই পরিস্থিতিতে চরাঞ্চলের কৃষকরা নতুন করে বন্যা ও ফসলহানির আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের টাপুরচর এলাকার কৃষক হযরত আলী বলেন, তিস্তার তলদেশ পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। সামান্য পানি বাড়লেই চরে ঢুকে পড়ে। বাদাম, ভুট্টা ও শাকসবজির এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। পানি আর একটু বাড়লে সব তলিয়ে যাবে।
গত শুক্রবার দুপুরে ডালিয়া ব্যারাজ পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেছিলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কারিগরি ও প্রশাসনিক কাজ এগিয়ে চলছে। বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নের পর প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপন করা হবে এবং এটি নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। কিন্তু ওই আশ্বাসের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পানি বিপদসীমার এত কাছে চলে আসায় তিস্তাপাড়ের মানুষের মধ্যে নতুন করে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহ বৃদ্ধির কারণে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটের সবগুলো খুলে অতিরিক্ত পানি নিরাপদে প্রবাহিত করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
স্থানীয়রা বলছেন, অভিন্ন নদী হওয়ায় উজানের আকস্মিক পানি ছাড়ার প্রভাব প্রতি বছরই তিস্তা অববাহিকার মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলছে। আগাম সতর্কবার্তার অভাবে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। তাই তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে কার্যকর তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।



