অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজারে সূচক পতনের মধ্যেও ডিএসইর লেনদেন বেড়ে আবারো ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। গত দুই কার্যদিবসে ৮০ পয়েন্টের বেশি উত্থানের পর গতকাল বুধবারের বাজারকে অনেকেই ‘স্বাভাবিক সংশোধন’ হিসেবে দেখছেন। দিনশেষে ডিএসইতে লেনদেন হয় ৫৩৩ কোটি টাকা। এর আগে সর্বশেষ ২৭ নভেম্বর ৫০০ কোটির ওপরে লেনদেন হয়েছিল।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) জানায়, প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২১ দশমিক ০৫ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৯৬২ দশমিক ৯০ পয়েন্ট থেকে নেমে আসে ৪ হাজার ৯৪১ দশমিক ৮৪ পয়েন্টে। যদিও দিনের শুরুতে সূচক ভালো অবস্থানেই ছিল। লেনদেনের প্রথম কয়েক মিনিটেই সূচক বাড়ে ৩০ পয়েন্টের বেশি এবং দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সে অবস্থান ধরে রাখে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিক্রয়চাপ বাড়তে শুরু করলে সূচক ধীরে ধীরে নিম্নমুখী হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের চাপ না থাকলেও দিনের শেষে সূচক হারায় বাজারটি। একই সময় ডিএসই-৩০ সূচক ৮ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ দশমিক ৫১ পয়েন্ট কমে।
অন্য দিকে দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ছিল উল্টো চিত্র। গতকাল সিএসইর সবগুলো সূচকই বেড়ে লেনদেন শেষ করে। প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৪৫ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট বাড়ে। সিএসই-৩০ সূচক ও সিএসসিএক্স সূচক বাড়ে যথাক্রমে ৪২ দশমিক ৮০ এবং ২৭ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট। তবে সূচক বাড়লেও বাজারটিতে লেনদেন কমে দাঁড়ায় ৯ কোটি টাকা, যা আগের দিনের ১৫ কোটি টাকা থেকে কম।
সূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেন বেড়ে যাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, টানা দুই দিনের বড় উত্থানের পর বাজারে সামান্য সংশোধন স্বাভাবিক। তবে লেনদেনের উন্নতি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাদের প্রত্যাশা, বাজার শিগগিরই আবার ভালো আচরণে ফিরবে।
এ দিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শীর্ষ সংগঠন ‘বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ’ (বিএপিএলসি)-এর ২০২৬-২৭ কার্যকালের জন্য নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়েছে। ন্যাশনাল পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়াদ মাহমুদ সভাপতি এবং সায়হাম কটন মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ সহসভাপতি হয়েছেন। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী নির্বাচন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে সম্প্রতি বিএপিএলসির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএপিএলসি পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর একটি শীর্ষ সংগঠন। এর আগে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালি চৌধুরী একই দায়িত্বে ছিলেন।
নির্বাহী কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- রোকেয়া কাদের (দেশ গার্মেন্টস লিমিটেড), সৈয়দ ফরহাদ আহমেদ (আমরা নেটওয়ার্কস লিমিটেড), আলহাজ মো: নুরুন নেওয়াজ (এনসিসি ব্যাংক পিএলসি), মোহাম্মদ ইউনুস (শাহজালাল ইসলামি ব্যাংক), মো: ইমাম শাহীন (এশিয়া ইন্স্যুরেন্স), ফারজানা চৌধুরী (গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স), শাহরিয়ার আহমেদ (এপেক্স স্পিনিং), হুমায়ূন রশিদ (এনার্জিপ্যাক পাওয়ার), মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম (ন্যাশনাল হাউজিং ফাইনান্স), জিয়াদ রহমান (ডেল্টা লাইফ), শরীফ শাহ জামাল রাজ (রবি আজিয়াটা), জাফর আহমেদ পাটওয়ারী (পিপলস ইন্স্যুরেন্স), মো: শরীফ হাসান (চার্টার্ড লাইফ), মনিরুল ইসলাম আখন্দ (সামিট পাওয়ার), চৌধুরী কামরুজ্জামান (রংপুর ফাউন্ড্রি), মো: জাহিদুল ইসলাম (প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স), হাসান তারেক (ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স), উজ্জ্বল কুমার সাহা (জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ) ও মো: আবদুল্লাহ আল এমরান (ই-জেনারেশন পিএলসি)।
এ দিন ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষে ছিল প্রকৌশল খাতের ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস, যার ৬৯ লাখ ৮৯ হাজার শেয়ার লেনদেন হয় ১৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকায়। দ্বিতীয় স্থানে ছিল ওরিয়ন ইনফিউশন, যার তিন লাখ ৭১ হাজার শেয়ার লেনদেন হয় ১৪ কোটি ২৩ লাখ টাকায়। শীর্ষ দশে থাকা অন্যান্য কোম্পানি- খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, বিডি থাই ফুডস, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, একমি পেস্টিসাইডস, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, মুন্নু ফেব্রিক্স, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।
মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষে ছিল ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, যার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে বিডি থাই ফুডস (৭ দশমিক ১৪ শতাংশ)। শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানি- সোনারগাঁও টেক্সটাইলস, রূপালি লাইফ, ইবিএল এনআরবি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, আইএফআইসি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এলআর গ্লোবাল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন ডেল্টা ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, সোনালি লাইফ ও প্রগতি লাইফ।
দরপতনে শীর্ষে ছিল ফ্যামিলিটেক্স যার দর কমেছে ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এরপর শ্যামপুর সুগার মিলস কমেছে ৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ। দরপতনের শীর্ষ দশে আরো ছিল- আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড, দেশবন্ধু পলিমার, কাট্টলি টেক্সটাইল, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, একমি পেস্টিসাইডস, বারাকা পাওয়ার ও ন্যাশনাল টি কোম্পানি।



