ক্রীড়া ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডার যৌথ আয়োজনে ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের ২৩তম আসরের ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে কোয়ার্টার ফাইনাল। আজ হবে প্রথম সেমিফাইনাল। ফাইনালে উঠার জমজমাট লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। এর আগে গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত চলমান আসরে মোট ১৪ জন ফুটবলার লাল কার্ড দেখে বহিষ্কার হয়েছেন। যা বিশ্বকাপের আগের আসরগুলোর তুলনায় সরাসরি লাল কার্ডের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফার তথ্য অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব এবং নকআউট মিলে এখন পর্যন্ত লাল কার্ডের এই সংখ্যা গত দুই আসরের (২০১৮ ও ২০২২ সালে মোট ৮টি) মিলিত রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। অবৈধভাবে ট্র্যাকল করে ইতোমধ্যে হলুদ কার্ড জুটেছে ২২৭ জনের।
বিশ্বকাপের দিন মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচেই শুরু হয় তিন লাল কার্ড দিয়ে। থেম্বা জোয়ানে (দক্ষিণ আফ্রিকা) ও সিজার মন্তেস (মেক্সিকো) উদ্বোধনী ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন। এ ছাড়াও মাঠের নিয়মভঙ্গ কারণে মাঠে খেলোয়াড় ছাউনিতে বসে দক্ষিণ আফ্রিকার স্পোহেকী সিথোলে লাল কার্ড দেখেন। প্রতিযোগিতা শুরুর প্রথম ম্যাচেই অর্থাৎ মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচে তিনটি লাল কার্ড দেখানোর ঘটনা টুর্নামেন্টে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
এবারের আসরে সরাসরি লাল কার্ড দেখেই মাঠ ছাড়েন বেশির ভাগ ফুটবলার। প্যারাগুয়ের মিকায়েল আলমিরন মুখের ওপর হাত দিয়ে কথা বলার নতুন নিয়ম বা কভারিং রুলের কারণে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। কানাডার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন কাতারের হোমাম আহমেদ ও আসিম মাদিবো। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার তারিক মুহারেমোভিচকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা (ফিফা)।
মাঠে আক্রমণাত্মক ফুটবল ও ভিএআর প্রযুক্তির কঠোর প্রয়োগের কারণে এবারের আসরে লাল কার্ডের সংখ্যা আগের আসরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং কাতার রেকর্ড সর্বোচ্চ দু’টি করে লাল কার্ড দেখেছে। এই অতিরিক্ত লাল কার্ডের কারণে দলগুলোকে প্রায়ই ১০ জনের দল নিয়ে মাঠের লড়াই চালিয়ে যেতে হয়েছে।
হাজারো খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণে চলমান এই মহাযজ্ঞে এ পর্যন্ত ২২৭টি হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছে। দলভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি ১২টি হলুদ কার্ড দেখেছে মিসর। এ ছাড়া কানাডা ১১টি হলুদ কার্ড নিয়ে তালিকায় আছে দ্বিতীয় অবস্থানে। তিউনিসিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র পুরো আসরজুড়ে মাত্র একটি করে হলুদ কার্ড দেখেছেন তিউনিসিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের ফুটবলার। যা শৃঙ্খলা ও ফেয়ার প্লে-র ক্ষেত্রে তাদের দারুণ অবস্থান তুলে ধরে।
বিশ্বকাপে কার্ডের সংখ্যা এতটা বেড়ে যাওয়ার পেছনে রেফারিদের পাশাপাশি উন্নত ভিএআর প্রযুক্তির প্রভাব। অনেক ক্ষেত্রে মাঠের রেফারি যে ফাউলগুলোকে কেবল হলুদ কার্ডের যোগ্য মনে করেছিলেন, পরবর্তীতে ভিএআর প্রযুক্তির সেøা-মোশন রিপ্লে দেখে তা সরাসরি লাল কার্ডে উন্নীত করা হয়েছে। এ ছাড়াও কার্ডের বোঝা কমাতে ফিফা বিশেষ নিয়ম চালু করেছে। গ্রুপ পর্বের পর হলুদ কার্ডের হিসাব মুছে ফেলে নকআউট পর্বে খেলোয়াড়দের নতুন করে সুযোগ দেয়া হয়েছে।



