সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রাজিব শাহের আস্তানা উচ্ছেদ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে গড়ে তোলা রাজিব শাহের আস্তানা উচ্ছেদ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পরিচালিত এ অভিযানে স্থাপনাটির চৌহদ্দি তৈরিতে ব্যবহৃত ইট বুলডোজারের মাধ্যমে সরিয়ে নেয়া হয়। উচ্ছেদ অভিযানের সময় রাজিব শাহ কিংবা তার অনুসারীদের কাউকেই ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি।

ফলে কোনো ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়নি। এ সময় গণপূর্ত অধিদফতর, ডিএসসিসি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিমের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা রাসেল রহমান জানান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানটি গণপূর্ত অধিদফতরের। তবে অভিযানে ‘লজিস্টিক সাপোর্ট’ দিয়ে সহায়তা করেছে ডিএসসিসি। অভিযান পরিচালনা করেন ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে তোলা আস্তানায় কথিত মসজিদ নির্মাণের বিষয়টি গত কয়েক দিন ধরে গণমাধ্যমে আলোচনায় আসে।

অভিযোগ রয়েছে, রাজিব শাহ নামের এক গৃহহীন, ভবঘুরে ও হতদরিদ্র ব্যক্তি প্রথমে উদ্যানের ওই স্থানে ধান চাষ করেন। পরে কলাগাছ, ঢ্যাঁড়শ ও গাঁদাসহ বিভিন্ন ফুলের চারা রোপণ করেন। পরবর্তী সময়ে নামাজ আদায়ের নামে প্রথমে একটি-দু’টি জায়নামাজ বিছিয়ে মুসল্লিদের জন্য স্থান তৈরি করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে সেখানে কথিত মসজিদটি গড়ে তোলা হয়। একপর্যায়ে নিয়মিত ওয়াক্তের আজান এবং ইমামের মাধ্যমে জামাতে নামাজ আদায়েরও ব্যবস্থা করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পরে উদ্যানে নাট্যশালা নির্মাণের জন্য সংরক্ষিত ইট এনে কথিত মসজিদটির চারপাশে চৌহদ্দি নির্মাণ করা হয়।

ঘটনাটি অনেকের কাছে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর কালজয়ী উপন্যাস লালসালুর মজিদ চরিত্রের কথা মনে করিয়ে দেয়। তবে রাজিব শাহ শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন, উদ্যানে আগত মুসল্লিদের সাময়িকভাবে নামাজ আদায়ের সুবিধা করে দিতেই এ স্থান তৈরি করা হয়েছে। এর পেছনে সরকারি জমি দখল বা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

প্রসঙ্গত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরে স্থায়ীভাবে নামাজ আদায়ের কোনো স্থান না থাকলেও অদূরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ এবং তিন নেতার মাজারসংলগ্ন মসজিদে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে।