নজরুল ইসলাম সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)
সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা বৈধ ও অবৈধ হাটবাজার জনভোগান্তি এবং সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। উপজেলার উত্তর প্রান্তের বড় দারোগারহাট থেকে দক্ষিণের ফৌজদারহাট পর্যন্ত প্রায় ৪২ কিলোমিটার মহাসড়কজুড়ে অন্তত ১৭টি হাটবাজার রয়েছে। এসব বাজারের অধিকাংশই উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ইজারা দেয়া হয়। রাজস্ব আয় হলেও বাজারকেন্দ্রিক ভিড়, অব্যবস্থাপনা এবং মহাসড়কের পাশে যানবাহন পার্কিংয়ের কারণে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড় দারোগারহাট, ছোট দারোগারহাট, ফকিরহাট, শুকলালহাট, বাড়বকুণ্ড, বাঁশবাড়িয়া, কৌট্টাবাজার, কুমিরা, বগুলাবাজার, মদনহাট, মাদামবিবিরহাট, ভাটিয়ারী, বানুরবাজার, জলিল গেট বাজার, ফৌজদারহাটসহ বিভিন্ন স্থানে সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে হাট বসে। বাজারগুলোর অনেক দোকানপাট ও ক্রেতা-বিক্রেতার অবস্থান মহাসড়কের একেবারে গা ঘেঁষে হওয়ায় যান চলাচলে বিঘœ ঘটে।
সংশ্লিষ্ট অনেকেই বলছেন, মহাসড়কের পাশে বাজার বসার কারণে যানবাহনের গতি কমে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ঈদ, বিভিন্ন উৎসব কিংবা সাপ্তাহিক হাটের দিন পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত যানবাহন ও মানুষের চাপের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
বড় দারোগারহাটের বাসিন্দা ফয়েজ আহম্মদ বলেন, অনেক বাজারে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা মহাসড়কের পাশ দখল করে বসেন। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প চলাচলের সুযোগ সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস কিংবা অন্যান্য জরুরি সেবার যানবাহনও বাধার মুখে পড়ে।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ বলেন, মহাসড়কসংলগ্ন বৈধ-অবৈধ বাজার ও পশুরহাট যানজট এবং দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এ কারণে নিয়মিত নজরদারি চালানো হয়। উপজেলা প্রশাসন বাজারগুলো আরো কার্যকরভাবে তদারকি করলে জনভোগান্তি ও দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে। তিনি জানান, প্রতিটি বাজার এলাকায় হাইওয়ে পুলিশের টহল অব্যাহত থাকার পরও জনভোগান্তি কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, উপজেলার অধিকাংশ বাজারই মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। প্রতি বছর বিধি-বিধান অনুসরণ করেই বাজারগুলো ইজারা দেয়া হয় এবং নিয়মিত মনিটরিং করা হয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যাতে সড়কের ওপর বা সড়ক দখল করে বসতে না পারেন, সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখা ও সতর্ক করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইজারাদারদেরও জনভোগান্তি ও যানজট এড়াতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় গণপরিবহন চালক আবদুর রহিমের মতে, মহাসড়কে নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক গতি নিশ্চিত করতে বাজার ও হাটগুলোকে নির্দিষ্ট দূরত্বে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। একই সাথে ফুটওভারব্রিজ, সার্ভিস লেন এবং নিয়ন্ত্রিত পারাপারের ব্যবস্থা করা গেলে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যহারে কমে আসবে। বাড়বকুণ্ড এলাকার বাসিন্দা মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ককে নিরাপদ রাখতে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা এবং কঠোর নজরদারি জরুরি। অন্যথায় জনভোগান্তি আরো বাড়বে।
তবে বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহাসড়কের পাশে বাজার থাকার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজতর হয়। শুকলালহাট বাজারের ব্যবসায়ী আবুল বশর জানান, সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় উৎপাদিত সবজি দ্রুত দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো যায়। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ী উভয়েই লাভবান হন। তবে বাজারের সুবিধার পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।



