বিকেএমইএর সংবাদ সম্মেলন

গ্যাসসঙ্কটে বন্ধ ৩০০ কারখানা ক্ষতির আশঙ্কায় রফতানি শিল্প

Printed Edition

নারায়ণগগঞ্জ প্রতিনিধি

গ্যাসসঙ্কটে বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় ৩০০ কারখানা। এতে রফতানি শিল্পে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। গতকাল নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় বিকেএমইএ ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সংগঠনটির নেতারা।

তারা বলেন, গত প্রায় এক মাস ধরে চলমান গ্যাসসঙ্কটে শিল্পকারখানাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে গ্যাসের চাপ শূন্যের কাছাকাছি নেমে যাওয়ায় অনেক কারখানায় উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। একপর্যায়ে ৩০০টিরও বেশি কারখানা সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।

সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গত মাসের ২০ তারিখ থেকে দেশে ভয়াবহ গ্যাসসঙ্কট চলছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় ১০ তারিখ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে সঙ্কট আরো তীব্র হয়েছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক কারখানা নির্ধারিত সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারছে না। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সময়মতো রফতানি পণ্য সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।

বিকেএমইএর সভাপতি বলেন, উৎপাদন বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের বেতনভাতা পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে মাসে প্রায় সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের রফতানি বিবেচনায় চলমান সঙ্কটে প্রায় দেড় থেকে দুই বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সঙ্কটের পরোক্ষ ক্ষতি আরো ভয়াবহ। গ্যাসসঙ্কটের কারণে বিদেশী ক্রেতাদের মধ্যে বাংলাদেশের শিল্প খাত নিয়ে আস্থার সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু ক্রেতা অর্ডার প্রতিবেশী দেশগুলোতে সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত অর্ডার বাতিল হয়ে অন্য দেশে চলে গেছে। আগামী মৌসুমের অর্ডারও সরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিকেএমইএ নেতারা বলেন, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের রফতানি আয়, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এ সময় বিকেএমইএর নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ফজলে এহসান শামীম, ভাইস প্রেসিডেন্ট (অর্থ) মোর্শেদ সারওয়ার সোহেল, বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি কাজী মনির, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অমল পোদ্দার, ভাইস প্রেসিডেন্ট আশিকুর রহমান, পরিচালক নজরুল ইসলাম স্বপন ও পরিচালক মামুনুর রশীদসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।