আইসিটিতে নতুন ৮ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত

আমু, দীপু মনি, শাহজাহান খান আব্দুর রাজ্জাকসহ আসামি দুই ডজন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে প্রথমবার কাঠগড়ায় আ’লীগের শীর্ষ নেতারা

আলমগীর কবির
Printed Edition

  • জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিচার
  • মানবতাবিরোধী অপরাধ

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা আটটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) তদন্ত সংস্থা। এসব মামলায় আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা, সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক বিচারপতিসহ ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) দাখিলের প্রস্তুতি নিয়েছে প্রসিকিউশন।

অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এবং সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এসব প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে এবারই প্রথম আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, আটটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে প্রসিকিউশনের কাছে জমা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের ২০ দিনের অবকাশ শেষে আগামী ২১ জুলাই কার্যক্রম শুরু হলে এসব মামলায় পর্যায়ক্রমে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। এরপর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উপস্থাপন করা হবে।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, সাবেক মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ আনা হচ্ছে ঊর্ধ্বতন কমান্ড দায়বদ্ধতার নীতি এর ভিত্তিতে। আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারে এই নীতির অর্থ হলো, কোনো ব্যক্তি সরাসরি অপরাধ সংঘটনে অংশ না নিলেও তিনি যদি দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকে অধস্তনদের অপরাধ সম্পর্কে জানতেন, জানার সুযোগ ছিল অথবা অপরাধ প্রতিরোধ ও শাস্তির ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হন, তাহলে তার ওপর দায় বর্তাতে পারে।

তদন্ত প্রতিবেদনে কয়েকটি ঘটনায় নির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ফৌজদারি দায়-এর ভিত্তিতে অভিযোগ আনা হবে। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, আমির হোসেন আমু, ডা: দীপু মনি ও আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে একই মামলায় কমান্ড দায়বদ্ধতা এবং নির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ডে ব্যক্তিগত দায় দুই ধরনের অভিযোগই আনা হবে। তিনি বলেন, মাদারীপুরে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় শাহজাহান খানের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন দায়বদ্ধতার নীতিতে অভিযোগ আনা হচ্ছে। অন্য একটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মামলায় একই নীতিতে অভিযোগ আনা হবে কামাল আহমেদ মজুমদারের বিরুদ্ধে।

আমির হোসেন আমু, ডা: দীপু মনি, আব্দুর রাজ্জাক, শাহজাহান খান, কামাল আহমেদ মজুমদার ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে একাধিক মামলায় গ্রেফতার দেখানোর পর দেড় বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন। তদন্ত শেষ করতে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যবিধির একটি বিধান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ট্রাইব্যুনালের কার্যবিধির বিধি ৯(৫) অনুযায়ী, কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি হেফাজতে থাকলে তদন্ত এক বছরের মধ্যে শেষ করার কথা। নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ না হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালের নির্ধারিত শর্তে জামিন পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে ওই বিধিতে বলা হয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে ট্রাইব্যুনাল লিখিতভাবে কারণ উল্লেখ করে তদন্তের সময়সীমা এবং হেফাজতের মেয়াদ সর্বোচ্চ আরো ছয় মাস পর্যন্ত বাড়াতে পারে। তদন্তে বিলম্বের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, বিধিতে উল্লেখিত সময়সীমা বাধ্যতামূলক নয়, বরং এটি নির্দেশনামূলক। অর্থাৎ এটি একটি অনুসরণযোগ্য সময়সীমা হলেও তা লঙ্ঘন হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তদন্ত বা বিচারপ্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যায় না।

অন্য একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে সাবেক সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তা ও প্ররোচনার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের ভূমিকা, বক্তব্য ও কার্যক্রম অপরাধ সংঘটনের পরিবেশ তৈরিতে প্রভাব ফেলেছে কি না তা তদন্তে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, অভিযোগপত্রে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে।

সাভারে শিক্ষার্থী আশাবুল ইয়ামিন হত্যা

নতুন আটটি মামলার মধ্যে অন্যতম আলোচিত মামলা হলো সাভারে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শেখ আশাবুল ইয়ামিন হত্যা। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সংঘটিত এ ঘটনায় তদন্তকারীরা বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুরুতর আহত অবস্থায় ইয়ামিনকে একটি সাঁজোয়া যান থেকে ফেলে দেয়া হয়। এরপর তাকে সড়কে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে তার দেহ সড়ক বিভাজকের ওপর ফেলে রেখে যাওয়া হয়। তদন্তকারীরা এ ঘটনায় সাত থেকে আটজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছেন। তাদের মধ্যে দুই পুলিশ কর্মকর্তা এবং কারাগারে থাকা আওয়ামী লীগের দুই নেতার নাম রয়েছে।

শাপলা চত্বর মামলা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আটটি মামলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) আলোচিত আরো দু’টি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি চলছে। এর একটি ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ; অন্যটি ২০১৮ সালে কক্সবাজারের টেকনাফে সাবেক পৌর কাউন্সিলর আকরামুল হক নিহত হওয়ার ঘটনা।

চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনালের অবকাশ শেষে কার্যক্রম শুরু হলে শাপলা চত্বরের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আরো প্রায় ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। তদন্তে ওই অভিযানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, অভিযান পরিচালনার প্রক্রিয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্টদের কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপার নামও রয়েছে।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওই অভিযানের বিষয়ে সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে তারা জনমত প্রভাবিত করতে ভূমিকা রেখেছিলেন। বিশেষ করে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও বক্তব্যের মাধ্যমে অভিযানের পক্ষে একটি নির্দিষ্ট জনমত তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে টিকবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আইনগত পর্যালোচনা করছে প্রসিকিউশন। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে বিচারযোগ্য মামলা গঠনের জন্য যথেষ্ট কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগের উপাদানগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আইনগতভাবে সন্তোষজনক ভিত্তি পাওয়া গেলে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করা হবে। গত ১৪ মে এ মামলায় মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এর আগে গত ৫ মে চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তদন্তে শাপলা চত্বর অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫৮টি হত্যাকাণ্ড শনাক্ত করা হয়েছে।

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযান চালানো হয়েছিল। অন্য দিকে হেফাজতে ইসলাম ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন অভিযানে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং হতাহতের অভিযোগ করে আসছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তে ওই ঘটনার বিভিন্ন দিকনিহতের সংখ্যা, অভিযানের ধরন, নির্দেশদাতা, বাস্তবায়নকারী এবং পরবর্তী পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রসিকিউশন এখন এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগের আইনি কাঠামো তৈরি করছে।

আকরামুল হক হত্যা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আরেকটি আলোচিত মামলা হলো কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আকরামুল হক নিহত হওয়ার ঘটনা। ২০১৮ সালের ২৬ মে কক্সবাজারের টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় র‌্যাবের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে আকরামুল নিহত হন বলে সে সময় দাবি করা হয়েছিল। র‌্যাবের ভাষ্য ছিল, অভিযানের সময় আকরামুল প্রথমে গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়। তবে শুরু থেকেই আকরামুলের পরিবার এ ঘটনার ভিন্ন বর্ণনা দিয়ে আসছে। তার স্ত্রী আয়েশা বেগম অভিযোগ করেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং ঘটনার পর সেটিকে বৈধতা দিতে ঘটনাস্থলে ইয়াবা ও আগ্নেয়াস্ত্র রাখা হয়েছিল। র‌্যাব অবশ্য সে সময় এ অভিযোগ অস্বীকার করে।

চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি এবং র‌্যাবের বর্তমান ও সাবেক সদস্যসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো এবং ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

ট্রাইব্যুনালে বাড়ছে মামলার চাপ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে মোট ২৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট ছয়টি মামলায় ইতোমধ্যে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন আটটি মামলার অভিযোগপত্র দাখিল হলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট বিচারপ্রক্রিয়া আরো বিস্তৃত হবে।

প্রসিকিউশন বলছে, প্রতিটি মামলায় অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে সাক্ষ্য, নথি, ভিডিও ফুটেজ, ডিজিটাল প্রমাণ এবং অন্যান্য উপাদান বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অভিযোগপত্র দাখিলের পর ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়ায় এসব প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিচার এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে।