নিজস্ব প্রতিবেদক
অফিস সময়ে চিকিৎসকরা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করে প্রশাসনের কাছে ধরা পড়ে চাকরি খোয়াচ্ছেন অনেকে। সম্প্রতি দুইজন চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবারও পুরান ঢাকার পপুলার ডায়গনস্টিক সেন্টারে অফিস সময়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে গিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীর কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে চাকরি খুইয়েছেন। তিনি নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা: মাইনুল হাসান চিশতী। এর আগে গত ২ আগস্ট শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি অ্যান্ড অবস্) ডা: শারমিন জাহান সোমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি অফিস চলাকালীন ভেদরগঞ্জের পপুলার ডায়গনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকে সার্জারি করছিলেন।
অফিস চলাকালীন ব্যক্তিগত চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা ‘মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ, ১৯৮২’র সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন। তারপরও অনেক চিকিৎসক অফিস চলাকালীন প্রাইভেট প্র্যাকটিস করছেন। এ জন্য প্রাইভেট ডায়গনস্টিক সেন্টার কিংবা প্রাইভেট ক্লিনিক মালিকরা কম দায়ী নন। অভিযোগ রয়েছে, জেনে-শুনেই তারা চিকিৎসকদের তাদের ক্লিনিক কিংবা প্রাইভেট চেম্বারে বসতে দেন। ঢাকা শহরে যারা অফিস চলাকালীন রোগী দেখেন বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ করেন তাদের সবাই ঢাকা শহরে কর্মরত চিকিৎসক নন, ঢাকার বাইরে থেকেও আসেন। এদের বেশির ভাগই আগে ঢাকায় চাকরি করতেন। এদের ঢাকার বাইরে বদলি করা হলেও কর্মস্থলের দায়িত্বশীলদের ম্যানেজ করে ঢাকায় চলে আসেন প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে।
অফিস চলাকালীন কেন ঢাকার প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক, চেম্বার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সরকারি চাকুরে চিকিৎসকদের প্র্যাকটিস করতে দেয়া হয় তা জানতে চেষ্টা করা হয়; কিন্তু এসব বিষয়ে কোনো হাসপাতাল কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক কিংবা কর্মকর্তারাও কথা বলতে রাজি হননি। তারা প্রশ্নের ধরন শুনলেও সরাসরি বলে দিচ্ছেন এ ব্যাপারে যে দায়িত্বে আছেন তার সাথে কথা বলতে; কিন্তু কে যে দায়িত্বে আছেন তা কেউ বলছে না। তাদের চোখ ও মুখের দিকে তাকালে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, তারা সাংবাদিকের কাছ থেকে পলায়ন করতে পারলেই বাঁচেন। ঢাকার বড় বড় কয়েকটি হাসপাতালে গিয়ে জানতে চেষ্টা করা হয় নয়া দিগন্তের পক্ষ থেকে।
কিছু কিছু কর্মকর্তা পূর্বপরিচিত বলে তারা আছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হওয়ার শর্তে কথা বলেছেন।
তারা বলেছেন, যেসব সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা দিনের বেলা অফিস সময়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন তাদের এ সময়ে কাজে লাগানো হয় তখন হাসপাতালে চিকিৎসকের অভাব থাকে। হাসপাতাল চালাতে হলে ডাক্তার লাগে, ডায়ানস্টিকের অনেক কিছু টেকনোলজিস্টরা করতে পারেন না, এগুলোর জন্য ডাক্তার প্রয়োজন হয়। আবার অনেক প্র্যাকটিশনার রয়েছে যাদের কাজে লাগানো হয় দিনের ওই সময়টায় যখন অন্য ডাক্তারদের পাওয়া যায় না। তা ছাড়া এমন অনেক ডাক্তারকে অফিস চলাকালীন রোগী দেখতে দেয়া হয় যাদেরকে হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকের মালিকরা পূর্বপরিচিতির কারণে ‘না’ করতে পারেন না।



