কর্ণফুলীতে পল্লী বিদ্যুতের ৩ ট্রাক ‘সøাইস’ সরিয়ে নেয়ার অভিযোগ

চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এ টি এম হানিফ ও গফুর মেম্বারের উপস্থিতিতে ট্রাক সরিয়ে নেয়া হয়

Printed Edition

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে গভীর রাতে তিনটি ট্রাক থেকে পল্লী বিদ্যুৎ উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত উচ্ছিষ্ট অবৈধ পোড়া তেল বা ‘সøাইস’ খালাসের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এ টি এম হানিফ ও গফুর মেম্বারের উপস্থিতিতে পরে ট্রাকগুলো ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত সোমবার রাত ১টার দিকে খুদ্দট্যাক এলাকার ওসমান ওরস বিরানির সামনে সড়কে তিনটি ট্রাক থেকে মালামাল খালাস করতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত শ্রমিকদের কাছে মালামালের বৈধতা জানতে চাইলে তারা জানেন না মালামাল বৈধ না অবৈধ। তবে চালকদের সাথে কথা বলতে বলেন তারা।

চালকদের দাবি, মালামালের বৈধ চালান রয়েছে। তবে উপস্থিত সাংবাদিকদের দাবি, চালানগুলোর সাথে ট্রাকের নম্বরের মিল পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে থাকা দু’টি ট্রাকের নম্বর ঢাকা মেট্রো-ন-১১-১২৬৫ ও ঢাকা মেট্রো-ন-১২-০১৫৮। অপর ট্রাকটির নম্বর অন্ধকারের কারণে শনাক্ত করা যায়নি।

বিষয়টি জানাতে কর্ণফুলী থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও প্রথমে তিনি সাড়া দেননি। পরে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘ফোর্স পাঠাচ্ছেন’ বলে জানান। তবে সাংবাদিকদের দাবি, প্রায় এক ঘণ্টা পরও ঘটনাস্থলে কোনো পুলিশ সদস্য আসেননি।

এদিকে সাংবাদিকদের উপস্থিতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন এ টি এম হানিফ ও গফুর মেম্বার। স্থানীয়দের উদ্দেশে এ টি এম হানিফ বলেন, ‘তোমরা তো ঘটনা বড় করে ফেলছ।’ পরে ট্রাকের চালক ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে নিয়ে পাশের একটি চায়ের দোকানে বৈঠক করেন তারা। সাংবাদিকদের সেখান থেকে বের করে দেয়া হয়। পরে কোনো বক্তব্য না দিয়েই ট্রাকগুলো ঘটনাস্থল ছেড়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপির ওই দুই নেতার সাথে যোগসাজশের কারণেই ট্রাকগুলো সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে এ টি এম হানিফ ও গফুর মেম্বারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কর্ণফুলী থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কোনো কিছু পাইনি।’ তবে সাংবাদিকদের দাবি, তারা প্রায় এক ঘণ্টা ঘটনাস্থলে অবস্থান করলেও সেখানে পুলিশ সদস্যদের দেখা যায়নি।