হাম উপসর্গে আরো সাতজনের মৃত্যু

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

দেশে রোববার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মোট সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর দেশে পাঁচ মাসে এই রোগে মোট মৃত্যু ৯১৫ জনে পৌঁছেছে। । সর্বশেষ মারা যাওয়াদের মধ্যে পাঁচজনই ঢাকা বিভাগে এবং বাকি দুইজন ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগের। তবে এ সময় কারো নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়নি। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

একই সময় নতুন করে নতুন করে হাম ও উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৩১ জন। এর মধ্যে ৯৮১ জনের দেহে হামের উপসর্গ মিলেছে। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ৫০ জনের। এ ছাড়া নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯২৯ শিশু, আর সুস্থ হওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৭৪ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৯১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৯ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৮১৬ জন।

একই সময়ে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এক লাখ ৪৩ হাজার ৭৭৮ জনের। আর নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ১৭ হাজার ৯৩০ জন। মোট হাম ও উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ৬১ হাজার ৭০৮ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক লাখ ২৫ হাজার ৩৮৬ জন। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছে এক লাখ ২০ হাজার ৯১৩ জন।

চলতি বছরে হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৪১২ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এরপর সিলেট বিভাগে ১৩৬, রাজশাহীতে ৯৫, ময়মনসিংহে ৭৬, চট্টগ্রামে ৭৩, বরিশালে ৬৭, খুলনায় ৩২ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।

মমেক দুই দিনে দুই শিশুর মৃত্যু

ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ৭০ শিশুর। গতকাল ১৭ আগস্ট দুপুরে মমেক হাসপাতাল থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ২২ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ২৫ শিশু ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৬ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা: মাইন উদ্দিন জানান, গত দুই দিনে পাঁচ ও সাত মাসের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ মাসের ছেলে শিশুর বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায়। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় সাত মাসের এক মেয়ে শিশুর মৃত্যু হয়। তার বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলায়।

সিলেটে হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড

সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেটে হাম ও উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় কারো মৃত্যু না হলেও এ সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তিতে নতুন রেকর্ড হয়েছে। একদিনে নতুন করে ১৩৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২৮ জনে। একই সময়ে আরো আটজনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৭৯ জন। হাম ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা আগের মতোই ১৩৬ জন।

গতকাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল হক।