নয়া দিগন্ত ডেস্ক
সড়ক দুর্ঘটনায় দেশের তিন জেলায় এক শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি বাস খাদে পড়ে ২০ জন আহত হয়েছেন।
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দ্রুতগতির বাসের চাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর মোটরসাইকেলটিকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় বাসটি।
সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের বাবনাতলা ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- পটুয়াখালী জেলার সুমখালী এলাকার আব্দুর রবের ছেলে আনিসুর রহমান (২৮) এবং বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দিয়াশুর গ্রামের ফরিদ হাওলাদারের ছেলে সালাউদ্দিন (৩০)।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনিসুর রহমান ও সালাউদ্দিন মোটরসাইকেলে ঢাকা থেকে পটুয়াখালীর দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বরিশাল থেকে ঢাকাগামী দশমিনা পরিবহনের একটি দ্রুতগতির বাসের নিচে তাদের মোটরসাইকেল ঢুকে পড়ে। এতে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর বাসটি মোটরসাইকেলটিকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে টেনে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে এবং বাসটি আটক করে।
মান্দা (নওগাঁ) সংবাদদাতা জানান, সকালে স্কুলে যাচ্ছিলেন সিয়াম হোসেন (৭) নামে এক শিশু শিক্ষার্থী। কিন্তু স্কুলে পৌঁছানোর আগেই ভুটভুটির ধাক্কায় থেমে গেল তার ছোট্ট জীবনের পথচলা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নওগাঁর মান্দা উপজেলার রামনগর গ্রামে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত সিয়াম হোসেন রামনগর গ্রামের সাজ্জাদ হোসেনের ছেলে। স্থানীয় রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল সিয়াম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিয়াম স্কুলে যাওয়ার পথে রামনগর গ্রামের সড়কে পৌঁছালে একটি ভুটভুটি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় গণেশ চন্দ্র সরকার (৬০) নামে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত ও শামসু শেখ (৫৫) নামে অপর এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। সোমবার (৭ মে) রাত ১০টার দিকে উপজেলার হোগলা বাজারে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের ওই এলাকার নিখিল চন্দ্র সরকারের ছেলে। আহত সামসু উপজেলার জামিয়াকান্দা গ্রামের জালাল শেখের ছেলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে গণেশ চন্দ্র সরকার মোটরসাইকেলে বাজার থেকে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। এ সময় পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে উভয়চালক গুরুতরভাবে আহত হন। স্থানীয় আহতদের উদ্ধার করে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসক গণেশ চন্দ্র সরকারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত শামসু শেখকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পেরণ করা হয়।
কুমিল্লা প্রতিনিধি ও দাউদকান্দি সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মেডিক্যল কলেজ শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি ভ্রমণ বাস খাদে পড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার জিংলাতলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতরা সবাই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী। তারা কলেজের বার্ষিক ভ্রমণের অংশ হিসেবে চারটি বাসে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় আহত ২০ জনের মধ্যে ৯ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন- যাওয়াত, ফেরদৌস, কৌশি, মিরাজ, মুরসালিন, ইমন মৃধা, আরিফ, শফিকুল ইসলাম, মালিহা মেহনাজ, রায়হান, সাজিয়া, তাসপিয়া, আরিফুল ইসলাম, সামিউল, রাজর্ষি, তাসনীম, হুমায়রা, মিলা, নিসা ও তানজিনা।



