নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃষ্টির ধরনের পরিবর্তন আসায় সারা দেশেই বেড়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। সামনের দিনগুলোতে আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকেই দেশের ডেঙ্গুর অস্তিত্ব ছিল, তবে সংখ্যায় অনেক কম ছিল। জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত প্রকোপ কম থাকলেও জুন মাস থেকেই বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকেই সূচক উঠে যাচ্ছে ওপরের দিকে। জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১ জন আক্রান্ত হলেও ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত শতকের ঘরেই ছিল আক্রান্তের হার। তবে জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত পাঁচ মাসে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে তিন হাজার ১৯৭ জন। অন্য দিকে জুন থেকেই আক্রান্ত বেড়েছে অনেক বেশি। হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছে হাজারের বেশি।
চিকিৎসকরা বলছেন, একটা সময় ছিল ডেঙ্গু কেবল শহুরে রোগ ছিল। কিন্তু এখন ডেঙ্গু প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছে গেছে। মানুষের জীবন মানের যেমন উন্নতি ঘটেছে, তেমনি শহর থেকে প্রতিদিন গ্রামের সাথে যোগাযোগ বেড়েছে বলে ডেঙ্গু জীবাণুবাহী এডিস মশা পৌঁছে গেছে গ্রামে। সে কারণে ২০২৫ সালে বরিশালের প্রত্যন্ত গ্রামে মাসে কয়েক হাজার ডেঙ্গু আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি পাওয়া গেছে।
আবার এডিস মশার আচরণেও পরিবর্তন হয়ে গেছে বলে চিকিৎসকরা বলছেন। আগে এডিস মশা পরিষ্কার পানিতে ডিম ছাড়ত। কিন্তু এখন সেটাতেও পরিবর্তন ঘটেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কিটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল ইসলাম এমনটা বলে আসছেন গত কয়েক বছর থেকে। যাই হোক, গ্রামের আনাচে-কানাচেও স্বচ্ছ পানি আটকে থাকে দিনের পর দিন। সেখানে এডিস মশা সহজেই ডিম ছাড়তে পারে। চলতি সেপ্টেম্বর ও আগামী অক্টোব-নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তে সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে অধ্যাপক কবিরুল ইসলাম জানিয়েছেন।
দেশব্যাপী নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং ব্যাপক ভিত্তিতে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালিত না হলেও ডেঙ্গুর প্রকোপ কমানো সম্ভব নয়। প্রতি বছরই এমনই চলতে থাকার আশঙ্কা রয়েছে বলে মেডিসিনের অধ্যাপক ডা: আহমেদুর রহমান বলছেন।
ছুটির দিনে স্বাস্থ্য অধিদফতর সব জায়গা থেকে ডেঙ্গুতে ভর্তি রোগীর তথ্য সংগ্রহ করতে পারে না। তবুও গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এর আগের দিন বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার পর থেকে ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৫১২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে কেবল ঢাকা বিভাগে ২৪০ জন। এর মধ্যে ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশন হাসপাতালে ৬৭ জন, ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬৭ জন এবং দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ১০১ জন ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৯ জন, খুলনা বিভাগে ৭২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৫৭ জন, বরিশাল বিভাগে ২১ জন এবং রংপুর বিভাগে ১৩ জন ভর্তি হয়েছেন।



