ক্রেতা-বিক্রেতাদের বোঝাপড়ায় পার রিহ্যাব ফেয়ারের দ্বিতীয় দিন

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্রেতা দর্শনার্থী ও বিক্রেতাদের মধ্যে বোঝাপড়ার মধ্যে দিয়ে পার হয়েছে রিহ্যাব ফেয়ারের দ্বিতীয় দিন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে চলছে আবাসন কোম্পানিগুলোর বৃহৎ এ আয়োজন রিহ্যাব ফেয়ার ২০২৫। এতে ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থী বেশি। তা সত্ত্বেও আর্থিক মন্দার মধ্যেও কিছু ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে, যারা রিহ্যাব মেলায় এসেছেন দাম-দর করার জন্য। তারা আরো দু’দিন আসবেন। আবাসন কোম্পানিগুলোও চাচ্ছে দর্শনার্থীরা আসুক, রেডি ও চলমান প্রকল্পগুলো দেখুক। পছন্দ হলে পরে কোনো একসময় হয়তো কিনবনে। রিহ্যাব ফেয়ারে দর্শনার্থী হিসেবে যারা আসেন তাদের বেশির ভাগই পছন্দ ও দরে মিলে গেলে কেনার চেষ্টা করেন। আবাসন কোম্পানিগুলোর সাথে সংশ্লিষ্টরা এটা জানেন বলেই দর্শনার্থীরা যেন আসেন সেই উদ্দেশ্যেই ফেয়ারে ঢোকার টিকিটের দাম কমিয়ে রাখা হয়েছে। ১০০ টাকায় চার দিন ঢোকার ব্যবস্থা রেখেছেন।

গতকাল ছুটির দিনে সকালের চেয়ে বিকেলের দিকে দর্শনার্থী ও ক্রেতা আগমনের হার ছিল তুলনামূলক বেশি ছিল। মোটামুটি ঘন কুয়াশায় শীতের কারণে এবং বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনের কারণেও এ দিন সকালে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সংখ্যা কম ছিল।

রিহ্যাব মেলায় প্রতি বছরই ক্রেতা টানার জন্য আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট ছাড়াও সাথে আরো কিছু কিছু উপহার থাকে যেগুলো সবাই পেতে চায়। মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন স্টলে কর্মরতদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ক্রেতারা প্রকল্প পছন্দের সাথে সাথে ডিসকাউন্টের বিষয়টা আগে জানতে চান। সেই সাথে ঋণের ব্যবস্থা এবং কী হারে ঋণ পরিশোধ করা যাবে তা জানতে চান। অনেক সময় আবাসন কোম্পানিগুলোও ব্যাংক ও নন ব্যাংকিং বিভিন্ন মাধ্যমের ঋণ পেতে ক্রেতাকে সহায়তা করে থাকেন।

রিহ্যাব ফেয়ার উপলক্ষে পরিবারের সবাইকে নিয়ে এক জায়গায় ঘুরে দেখা যায়, অসংখ্য ডেভেলপার ও আবাসন প্রতিষ্ঠানের ফ্ল্যাট ও প্লট। লোকেশন, দাম, ডিজাইন থেকে শুরু করে হস্তান্তরের সময় সব তথ্য এক ছাদের নিচে জানার সুযোগ মেলে এই মেলায়। আলাদা আলাদা অফিসে ঘুরে সময় নষ্ট না করে, পছন্দের ফ্ল্যাট বেছে নেয়াই রিহ্যাব ফেয়ারের বড় সুবিধা। এক ছাদের নিচে দেশের শীর্ষস্থানীয় রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলোর প্রকল্প সরাসরি দেখার সুযোগ থাকায় ক্রেতারা আগ্রহ নিয়ে মেলায় আসছেন। একই সাথে ডেভেলপারদের জন্য এটি তাদের প্রকল্প, বিশ্বাসযোগ্যতা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরার অন্যতম কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।

ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা এখনো বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে দেখছেন। ঢাকার বাসাবো এলাকায় থাকেন সরকারি কর্মকর্তা আমজাদ আলী। তিনি বলেন, আমি দেখতে এসেছি, প্রথম দিনও এসেছিলাম। আরো দু’দিন আসব। এখানে হয়তো বুকিং দেবো না। যে প্রকল্পগুলো পছন্দ হয়েছে সেসব কোম্পানির ঠিকানা ও ফোন নাম্বার নিয়ে নিয়েছি। পরে তাদের সাথে আরো দর কষাকষি করব। যেখানে ভালো অফার পাব সেখান থেকেই শেষ পর্যন্ত কিনব। সামনের বছরের প্রথম দিকেই এলপিআরে যাব। অবসরের যে টাকা পাব তা দিয়ে ফ্ল্যাট একটি কিনতে চাই। নগদ টাকা দিয়েই কিনব, যাতে কোনো ঝামেলায় না জড়াতে হয়।

রিহ্যাব ফেয়ার বিক্রেতাদের জন্য কেবল বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং এটি একটি বিশ্বাসযোগ্য ব্র্যান্ডিং ও ক্রেতাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ। প্রকল্প সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করা, ক্রেতাদের প্রশ্নের উত্তর দেয়া এবং বাজারের চাহিদা বোঝার ক্ষেত্রে এই মেলা অত্যন্ত কার্যকর। সেই সাথে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতিতে যৌথভাবে গৃহঋণ সুবিধা উপস্থাপন করাও ডেভেলপারদের জন্য বড় সুযোগ।

আগামীকাল শনিবার এই চার দিনব্যাপী এ মেলা শেষ হবে। রিহ্যাব নেতারা আশা করছেন, সামনে নতুন সরকার আসছে। তখন হয়তো দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে, মানুষের মধ্যে অর্থের প্রবাহ বাড়বে। গণতান্ত্রিক সরকারের সময় আবাসন ব্যবসা আরো সমৃদ্ধ হবে।