বিএনপির মির্জা ফখরুলের সাথে লড়ছেন জামায়াতের দেলাওয়ার

দেশবাসীর নজর ঠাকুরগাঁও-১ আসনে

দেশের যেসব সংসদীয় আসন নিয়ে ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তার অন্যতম ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসন। কারণ, এই আসনে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মো: দেলাওয়ার হোসেন। দুই প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মুখোমুখি অবস্থানে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে বাড়ছে উত্তাপ।

রাফিক সরকার, ঠাকুরগাঁও
Printed Edition
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মো: দেলাওয়ার হোসেন
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মো: দেলাওয়ার হোসেন

সারা দেশের যেসব সংসদীয় আসন নিয়ে ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তার অন্যতম ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসন। কারণ, এই আসনে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মো: দেলাওয়ার হোসেন। দুই প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মুখোমুখি অবস্থানে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে বাড়ছে উত্তাপ।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ের ভোটের মাঠ এখন বেশ সরগরম। রাজনৈতিক দলগুলো জোরেশোরে প্রস্তুতি নিচ্ছে। দীর্ঘদিন পর তুলনামূলক অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনায় ভোটারদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে বাড়তি আগ্রহ। অন্যদিকে প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় করতে গ্রাম থেকে গ্রামে, বাড়ি থেকে বাড়িতে ছুটে যাচ্ছেন, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ১৯৯১ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে এই আসনে বিএনপির হয়ে নির্বাচন করে আসছেন। বাম রাজনীতি থেকে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠন করলে তিনি কৃষি এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

তবে প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে এলাকায় সময় কম দেয়ার অভিযোগ এবং দলের কিছু নেতাকর্মীর কর্মকাণ্ড তার জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। এর ফল হিসেবে ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। তবুও এবারের নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাঁদের দাবি, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় বিএনপি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

দীর্ঘ প্রায় সতেরো বছরে রাজনৈতিক কারণে একাধিকবার কারাবরণ করেছেন মির্জা ফখরুল। দলের মহাসচিব হিসেবে তার জাতীয় পরিচিতি রয়েছে। বয়সের বিষয়টি উল্লেখ করে এটিকে জীবনের শেষ নির্বাচন হিসেবে ভোট চাইছেন তিনি। তার পক্ষে প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন স্ত্রী রাহাত আরা বেগম ও দুই মেয়ে মির্জা শামারুহ এবং মির্জা শাফারুহ।

অন্যদিকে, এই আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং বর্তমানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি।

ছাত্রশিবিরের সভাপতি থাকাকালে গ্রেফতার হয়ে টানা ৫৭ দিন রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হন দেলাওয়ার হোসেন। ওই ঘটনার পর তিনি একজন মজলুম নেতা হিসেবে পরিচিতি পান। বিএনপি ও জামায়াত পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় এই আসনে ভোটের সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে। জামায়াত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে শক্তভাবে মাঠে নেমেছে নেতাকর্মীরা। মিছিল, সভা, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগে সক্রিয় রয়েছেন। তরুণ, নারী ও সংখ্যালঘু ভোটারদের একটি বড় অংশের সমর্থন দেখা গেছে। যা বদলে দিতে পারে পূর্বের সব হিসাব-নিকাশ। তারা নির্বাচিত হলে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়তে কাজ করবেন; এমনটিই প্রত্যাশা দলের নেতাকর্মীদের। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী খাদেমুল ইসলামও এখনো নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শুধু সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত। ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা পাঁচ লাখ ১১ হাজার ৬২৯। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৫৫ হাজার ৫৩ জন, নারী ভোটার দুই লাখ ৫৬ হাজার ৫৭২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন চারজন। সংখ্যালঘু ভোটার প্রায় এক লাখ ১৯ হাজার এবং নতুন ভোটার এক লাখ ৯২ হাজার ৫৬৭ জন। এই বিশাল ভোটব্যাংকই মূলত জয়ের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।