ভিএআর আবেগকে মেরে ফেলে : দালিচ

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

টরন্টোয় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে যোগ করা সময়ের ১৩তম মিনিটে জোশকো গভার্দিওলের গোলে সমতায় ফেরার উল্লাসে মেতে উঠেছিল ক্রোয়েশিয়া। সেই গোল হলে ম্যাচ গড়াত অতিরিক্ত সময়ে। কিন্তু দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি। কারণ, ফিফার ‘কানেক্টেড বল’ প্রযুক্তি শনাক্ত করে যে, গভার্দিওলের শটের আগে বলটি অতি সামান্য স্পর্শ করেছিলেন স্ট্রাইকার ইগর মাতানোভিচ। ঠিক সেই মুহূর্তে আক্রমণের সময় মারিও পাসালিচ অফসাইড অবস্থানে ছিলেন। ফলে নিয়মানুযায়ী গোলটি বাতিল করা হয়।

হারের পর ভিএআরের সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন মতপ্রকাশ করেন ক্রোয়েশিয়ার কোচ দালিচ। তার মতে, ভিএআর অনেক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত দিলেও সেটির মূল্য দিতে হচ্ছে ফুটবলের স্বাভাবিক আবেগ হারিয়ে। দালিচ বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, কিভাবে আবেগকে প্রায় পুরোপুরি হত্যা করা হচ্ছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত আমাদের পেছনে টেনে নেয় এবং ফুটবলের আনন্দটাই যেন কেড়ে নেয়।’

তিনি যোগ করেন, আমি বলছি না যে ভিএআর কখনো কাজে আসে না। কিন্তু এটি আবেগকে মেরে ফেলে। ভেতরের অনুভূতিগুলোকে মেরে ফেলে। আপনি যে মুহূর্তটি উপভোগ করছেন, সেটিও নষ্ট করে দেয়। এসবের সাথে মানিয়ে নেয়া সহজ নয়।

২-১ ব্যবধানে নাটকীয় জয় তুলে নেয়ার পর মার্তিনেজ বলেন, বার্তাটা খুবই পরিষ্কার। এখন বলের ভেতরেও চিপ থাকে। তাই ভিএআর কেন হস্তক্ষেপ করেছে, সেটি একেবারেই স্পষ্ট। এখানে কোনো ব্যক্তিগত ব্যাখ্যার সুযোগ নেই। বলের চিপ পরিষ্কারভাবে দেখিয়েছে, মাতানোভিচ বল স্পর্শ করেছিলেন। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই পাসালিচ অফসাইডে ছিলেন।

এই ম্যাচে প্রযুক্তিই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করেন এই কোচ, একটি দলের হারতেই হতো, সেটা দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু কোনো ভুল সিদ্ধান্ত হয়নি, কোনো দুর্ভাগ্যজনক বাঁশিও হয়নি। সিদ্ধান্তটি ছিল একেবারেই স্পষ্ট। প্রযুক্তি আমাদের সাহায্য করেছে। আমরা একটি মুহূর্তে সুবিধা পেয়েছি ঠিকই, তবে সেটি ছিল একেবারেই পরিষ্কার একটি সিদ্ধান্ত।

এ সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল ফিফার ‘কানেক্টেড বল’ প্রযুক্তি। বিশেষ সেন্সরযুক্ত এই বলের ভেতরে থাকা একটি চিপ বলের সামান্যতম স্পর্শও শনাক্ত করতে পারে। ফলে ঠিক কোন মুহূর্তে বল স্পর্শ হয়েছে, তা অত্যন্ত নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়। চলতি বিশ্বকাপেও এর আগে সুইডেন ও তিউনিসিয়ার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সেবারও বলের সামান্য স্পর্শ শনাক্ত হওয়ার পর ভিএআর অফসাইড-সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছিল, সেই স্পর্শেই আক্রমণের ধাপ বদলে যায়।