টানা তিন দিনের ছুটিতে দেশব্যাপী পর্যটকদের ঢল নেমেছিল। কক্সবাজার, সিলেট, কুয়াকাটা, রাঙামাটি, সুন্দরবন সর্বত্রই ছিল ভ্রমণপিপাসু মানুষে একাকার। তবে হোটেল-মোটেলে থাকার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় কেউ কেউ বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন থার্টি ফার্স্ট নাইটের কয়েক দিন আগে বড়দিনসহ টানা তিন দিনের ছুটিতে কম হলেও কক্সবাজারে দুই লাখের অধিক পর্যটক আসেন, যা চলতি বছরের রেকর্ড। ভ্রমণের উপযুক্ত সময়ে প্রতি বছরই এমন ভিড় হলেও বছরের বাকি সময়টা লোকসানের মাধ্যমে যেতে হয়।
কক্সবাজারে আসা পর্যটকরা সমুদ্রসৈকতের লাবনী পয়েন্ট থেকে কলাতলী সর্বত্রই ভিড় করছেন।
পর্যটকরা জানিয়েছেন, ভ্রমণ উপভোগ্য হলেও হোটেল-মোটেল ভাড়া বেশি থাকার কারণে তারা হতাশ। তবে কক্ষ ভাড়ায় বাড়তি দামের কথা অস্বীকার করেন কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার।
হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক, ট্যুর অপারেটর, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, গত বৃহস্পতিবার থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত আট দিনে কক্সবাজারে অন্তত ৯ লাখের বেশি পর্যটক সমাগম হতে পারে। হোটেল-মোটেলের কক্ষ ১ জানুয়ারি পর্যন্ত বুকিং হয়ে গেছে।
অন্য দিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কুয়াকাটায়ও পর্যটকের উপস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। ইতোমধ্যে বুকিং রয়েছে ৯০ শতাংশ হোটেলের আবাসিক কক্ষ। পর্যটকদের আগমন উপলক্ষে বাড়তি নিরাপত্তা, মনিটরিং টিম, সেবার মান বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। সমুদ্র, বন আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের লীলাভূমি কুয়াকাটায় হাজারো মানুষ ভিড় করছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের আগমন শুরু হয়, যা দুপুরের পর আরো বাড়তে থাকে। সৈকতের বালিয়াড়িতে ঘুরে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন তারা। তবে কুয়াকাটার আবাসিক হোটেলগুলোতে ২০ থেকে ২৫ হাজার ধারণ ক্ষমতা থাকলেও এইবার পর্যটকের সংখ্যা লাখের বেশি পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
রাঙামাটির সাজেকেও একই অবস্থা। পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, বড়দিনের ছুটি ও সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় পরিবার কিংবা বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে সাজেক ভ্রমণে আসছেন পর্যটকরা। তবে বাড়তি চাপ থাকায় কটেজ ও রিসোর্টে কক্ষ মিলছে না। পর্যটকের চাপে জেলার প্রায় সব হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট এখন পূর্ণ। শহরের পাশাপাশি আশপাশের পর্যটন এলাকাগুলোতেও দেখা দিয়েছে আবাসিক সঙ্কট। কাপ্তাই লেকে নৌভ্রমণে অংশ নিতে অনেক পর্যটককে অপেক্ষা করতে হচ্ছে দীর্ঘ সময়।
রাঙামাটি পর্যটন ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক অলোক বিকাশ চাকমা জানান, শীতকাল শুরু হওয়ার সাথে সাথেই পর্যটকের আনাগোনা বাড়তে থাকে। ডিসেম্ব^রজুড়ে আগাম বুকিংয়ের হার ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে। এ দিকে সিলেটেও পর্যটকের ঢল নেমেছে। ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে, পাহাড়-পাথর আর স্ব^চ্ছ জলের সৌন্দর্যের মুগ্ধতায় মন ভরিয়ে নিচ্ছেন সেখানে বেড়াতে আসা মানুষ। বাঁধভাঙা আনন্দে মেতে উঠেছেন ছোট-বড় সবাই। তবে পর্যটকরা বলছেন, যথার্থ অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে এটি হবে আন্তর্জাতিক মানের এক পর্যটনকেন্দ্র।
একই অবস্থা সুন্দরবনেও। পর্যটকদের পদচারণায় মুখর পুরো এলাকা। শুক্রবার এ মৌসুমের সর্বোচ্চ দুই সহস্রাধিক পর্যটক বনের কটকা পয়েন্টে গেছেন। গত এক সপ্তাহে চার সহস্রাধিক পর্যটক সুন্দরবনের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরেছেন বলে বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের অন্যতম পর্যটন স্পট কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মতিউর রহমান বলেন, প্রতিদিন লঞ্চ ও জাহাজে করে শত শত পর্যটক সুন্দরবনে আসছেন। শুক্রবার একদিনে এ মৌসুমের সর্বোচ্চ সংখ্যক ৩৮টি জাহাজে করে দুই সহস্রাধিক পর্যটক কটকা পর্যটন কেন্দ্রে এসেছেন।



