আলজাজিরা
গাজা উপত্যকায় চলমান সঙ্ঘাতের মধ্যে জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ পরিচালিত স্কুলগুলো এখন দ্বৈত ভূমিকা পালন করছে। দিনের বেলা এগুলো শিশুদের জন্য শ্রেণিকক্ষ, আর রাতে পরিণত হচ্ছে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে। এই বাস্তবতা শুধু মানবিক সঙ্কট নয়; বরং একটি প্রজন্মের শিক্ষাজীবন ও মানসিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে।
ইউএনআরডব্লিউএ-এর অন্তত ৯০টি স্কুল বর্তমানে এই দ্বৈত ব্যবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ক্লাসে অংশ নিচ্ছে, যেখানে শিক্ষকরা সীমিত উপকরণে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। সন্ধ্যার পর স্কুল ভবনগুলো বাস্তুচ্যুত নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে রূপান্তরিত হচ্ছে। অনেক শিক্ষক নিজের পরিবারকেও স্কুলে আশ্রয় দিয়েছেন, ফলে তাদের ভূমিকা এখন শিক্ষক ও ত্রাণকর্মী- দুটোই।
এই স্কুলগুলোতে রাত কাটানো পরিবারগুলো বিছানা, খাবার, পানীয় ও চিকিৎসা সহায়তার সঙ্কটে ভুগছে। শিশুদের জন্য এটি এক মানসিক বিপর্যয়, কারণ তারা একই স্থানে দিনে পড়াশোনা করছে, আর রাতে ঘুমাচ্ছে- যেখানে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার অভাব প্রকট।
ইউএনআরডব্লিøউএ-এর শিক্ষক ও কর্মীরা বলছেন, ‘আমরা শুধু পাঠদান করছি না, শিশুদের মানসিকভাবে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছি।’ অনেক শিশু সহিংসতা, বোমা হামলা ও পরিবারের সদস্য হারানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে স্কুলে আসছে, যা তাদের মনোজগতে গভীর প্রভাব ফেলছে।
জাতিসঙ্ঘের পক্ষ থেকে গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা প্রবেশের আহ্বান জানানো হয়েছে। ইউএনআরডব্লিউএ ও অন্যান্য মানবিক সংস্থা তহবিলসঙ্কট ও নিরাপত্তাঝুঁকির মধ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটি বলছে, ‘আমরা যতদিন পারি, শিশুদের শিক্ষা ও আশ্রয় নিশ্চিত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাবো।’ এই সঙ্কট গাজার শিশুদের ভবিষ্যৎকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে।
স্কুলের বেঞ্চে বসে পাঠ শোনার পাশাপাশি, রাতের আঁধারে সেই একই বেঞ্চে ঘুমানোর বাস্তবতা- এটি শুধু একটি মানবিক বিপর্যয় নয়; বরং একটি প্রজন্মের সম্ভাবনা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত সহায়তা ছাড়া এই সঙ্কট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।



