মৃত বাবাকে খোলা চিঠি মেসির

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

দীর্ঘ দিন অসুস্থ থাকার পর রোজারিওর একটি ক্লিনিকে চিকিৎসারত অবস্থায় গত শুক্রবার ৬৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি। বিশ্বকাপের পর বাবার পাশে থাকতে কিছুদিন আর্জেন্টিনায় কাটিয়ে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছিলেন মেসি। কিন্তু বাবার মৃত্যুর সংবাদে আবার দেশে ফিরে আসেন বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা। বাবার মৃত্যুর চার দিন পর গত পরশু ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা। হারানো বাবাকে উদ্দেশ করে একটি খোলা চিঠি লেখেন তিনি। যে চিঠির প্রতিটি শব্দে মিশে আছে বাবা-ছেলের সম্পর্কের গভীরতা, পিতার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা, যে বাবার হাত ধরে জীবনের ও ফুটবলে পথচলা শুরু তাকে হারিয়ে সন্তানের দিশেহারা অবস্থা- সবকিছু। বাবার সাথে নিজের একটি ছবিও পোস্ট করেছেন মেসি। চিঠির লেখাগুলো ছিল এমন।

“বাবা, আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না যে তুমি চলে গেছ। মানতে পারছি না, মানতে চাইও না। তোমাকে আর কখনো দেখতে পাব না, আর কখনো আমরা কথা বলব না- কল্পনা করতেই কষ্ট হচ্ছে। জানি, তুমি কষ্ট পাচ্ছিলে- কিন্তু তুমি অনেক তাড়াতাড়ি চলে গেলে। আমাদের এক সাথে আরো অনেক আনন্দ করার ছিল।”

তুমি আমাকে বারবার বলেছিলে, আরেকটি বিশ্বকাপ খেলতে। বিশ্বকাপ শুরুর কয়েক দিন আগে তোমার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলো। এই প্রথম কোনো টুর্নামেন্টে তুমি আমার সাথে থাকতে পারছিলে না। প্রতিটি ম্যাচের পর তোমার এসএমএস খুব মিস করতাম। তখনই বুঝতে পারলাম, পরিস্থিতি আসলে কতটা গুরুতর। আমরা ফাইনালে উঠলাম, কিন্তু তুমি সেখানে থাকতে পারোনি। আমি টুর্নামেন্টটা জিততে চেয়েছিলাম, যাতে ট্রফিটা তোমার কাছে নিয়ে যেতে পারি, তোমাকে আরেকটি ট্রফি দেখাতে পারি। কিন্তু পারলাম না।

আমি ফিরে আসার পর তুমি ভেবেছিলে, আমরা টাইব্রেকারে ফাইনাল হেরেছি। বিশ্বকাপে কী ঘটেছিল, সে নিয়ে আমরা কোনো কথাই বলতে পারিনি। আবার তুমিই সঠিক প্রমাণিত হলে- আমার বিশ্বকাপে থাকা এবং খেলা উচিত ছিল। তোমাকে এসব বলছি, কারণ এটাই ছিল একমাত্র বিষয়, যেটা নিয়ে আমাদের কথা বলার সুযোগ হয়নি। বাকি সবকিছু তুমি জানো।

তোমাকে ছাড়া আমি কী করব, জানি না। কিভাবে সামনে এগিয়ে যাব, তাও জানি না। আমি সারা জীবন শুধু ফুটবলই খেলেছি। এখন আর কত দিন এটা চালিয়ে যেতে পারব, তা নিয়েও আমার মনে সন্দেহ জাগছে। একদম শুরু থেকেই তুমি আমার পাশে ছিলে। শেষ সময়টার তো আর সামান্যই বাকি ছিল। কেন আর একটু অপেক্ষা করতে পারলে না? তাহলে আমরা দু’জন এক সাথে শেষটা দেখতে পারতাম।

আমি তোমাকে খুব মিস করব বাবা। কিন্তু তুমি সব সময় আমাদের সাথেই থাকবে। বিশেষ করে আমি যেভাবে আমার সন্তানদের বড় করব, তাতে তোমার উপস্থিতি থাকবে। কারণ, তুমি আর মা আমাকে যেভাবে শিখিয়েছ, যেভাবে মানুষ করেছ, আমিও তাদের সেভাবেই বড় করব।

শান্তিতে থেকো, বাবা। ওপর থেকে আমাদের দেখে রেখো, যেমনটা এখানে থাকতে সব সময় রেখেছ। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ। আমি তোমাকে ভালোবাসি, বাবা।’