বিএমইউ থেকে কোটি টাকার মালামাল পাচারকালে ৩ ট্রাক আটক

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) স্পেশালাইজড হাসপাতাল থেকে কয়েক কোটি টাকার মালামাল চুরি হয়েছে। গত সোমবার গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘবদ্ধ একটি চক্র মালামালগুলো চুরিতে জড়িত বলে জানা গেছে।

মোট পাঁচটি ট্রাকে করে এই মাল চুরি করে দুবৃত্তরা। এ ঘটনায় তিনটি ট্রাক আটকানো সম্ভব হয়েছে বাকি দু’টি ট্রাক মালামাল নিয়ে পালিয়ে গেছে। জানা গেছে মালামালগুলো ভাঙ্গারি হিসেবে পাচারের চেষ্টা করা হয়েছে। ট্রাকে করে কি নেয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নে এক ট্রাকের ড্রাইভার ভাঙ্গারি নিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান।

বিএমইউ স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা: সাইফউল্লাহ মুন্সি নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে শাহবাগ থানায় জিডি করা হয়েছে। সেই সাথে এ ব্যাপারে তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট এলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে, মোট পাঁচটি ট্রাকের মালামাল পাচারের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনটি ট্রাক আটক করা হলেও স্থানীয় প্রভাবশালী মাস্তান চক্রের প্রভাবে দুবৃত্তরা দু’টি ট্রাক নিয়ে যেতে সমর্থ হয়েছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে কর্তব্যরত আনসার বাহিনী বাকি তিনটি ট্রাক আটক করতে সমর্থ হয়। আটক তিন ট্রাকের নম্বর যথাক্রমে ঢাকা মেট্রো-ন ২০-৮৫৬৮, ঢাকা মেট্রো-ন ১৭-৪৬৩১ এবং ঢাকা মেট্রো-ন ৫৯৯০।

এ ঘটনার চার মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ভিডিওতে স্পষ্ট ভাবে ঝকঝকে পরিষ্কার মেশিনারিজ দেখা গেছে। তবে হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মো: সাইফউল্লাহ মুন্সি জানিয়েছেন, এগুলো দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই কোম্পানির ঠিকাদারের রেখে দেয়া মাল, মেশিনারিজ নয়। যেটাই হোক স্পেশালাইজড হাসপাতালের প্রকল্পটি এখনো চলমান। প্রকল্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো রেখে দেয়া মাল (স্ক্র্যাপ) এখান থেকে বের হতে পারবে না। যে বা যারাই এর সাথে জড়িত, তাদের কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। মামলা করলেন না কেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট জমা দিয়ে মামলা করার জন্য শাহবাগ থানা পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে মামলা করা হয়নি।

চুরির রহস্য উদ্ঘাটন ও দায়ীদের শনাক্ত করতে হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়ার প্রসঙ্গে পরিচালক বলেন, এ ঘটনার তদন্তে অভ্যন্তরীণভাবে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমাদের অনুসন্ধান চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ধারণা করছি আমাদের কেউ চুরির সাথে যুক্ত থাকতে পারে। কারণ নিরাপত্তা ভেদ করে কিভাবে তারা ভেতরে ঢুকে ছিল তা খতিয়ে দেখবো। এখানে মূলত কিছু ভাঙ্গারি জিনিস চুরি হয়েছে। তাই চুরি হওয়া সামগ্রীর সঠিক আর্থিক মূল্য এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে খুব বেশি ক্ষতি হয়নি। বরং এগুলোকে আমাদের টাকা দিয়ে ফেলতে হতো। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর এই বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে গত সোমবার গভীর রাতে ট্রাকগুলো আটকের সময় আনসার সদস্যরা, ‘মালগুলো কোথায় নিয়ে যাচ্ছে প্রশ্ন করলে হাসান নামে ট্রাকের এক ড্রাইভার জানান, গুলশান-নতুন বাজারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রশ্ন, মালগুলো ভাঙ্গারি হলে রাতের আঁধারে নীরবে-নিঃশব্দে কেন নিয়ে যাচ্ছে? আবার স্থানীয় মাস্তান বাহিনীকে কেন কাজে লাগানো হলো? বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রগুলো বলছে, বিএমইউরে প্রভাবশালী একটি মহল এসব মালামাল পাচারের সাথে জড়িত, তদন্ত করলে বের হয়ে আসবে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান বলেন, সোমবার রাতে বিএমইউতে চুরি হয়েছে বলে থানায় একটি জিডি করেছে। তবে তাদের এতো নিরাপত্তা থাকার পরেও কিভাবে এটি ঘটলো সেটি তদন্ত শেষে জানা যাবে। জিডির কাগজ এখনো আমার হাতে এসে পৌঁছায়নি। তাই সঠিক ঘটনাটি বলতে পারছি না। হাসপতাল থেকে সহযোগিতা করলে আমরা ব্যবস্থা নেব।