নয়া দিগন্ত ডেস্ক
সড়ক দুর্ঘটনায় মাদারীপুরে দুই বন্ধুসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছয়জন নিহত হয়েছেন।
মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, মাদারীপুরে মোটরসাইকেল ও ইঞ্জিন-চালিত নসিমনের সংঘর্ষে দুই বন্ধু নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট-কবিরাজপুর সড়কের চাঁনপট্টি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। রাতে তাদের লাশ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। নিহতরা হলো- রাজৈর উপজেলার কবিরাজপুর ইউনিয়নের চাঁনপট্টি গ্রামের সিদ্দিক খালাসীর ছেলে রাজন খালাসী (১৭) ও হান্নান মল্লিকের ছেলে ইমন মল্লিক (১৯)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, রাজন ও ইমন দুইজনই মাদারীপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা বাজারে ফার্নিচার দোকানে কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে খাবার খাওয়ার জন্য বাড়িতে আসেন তারা। পরে খাওয়াদাওয়া শেষে বিকেলে মোটরসাইকেল নিয়ে দোকানে যাওয়ার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা টেকেরহাটগামী একটি নসিমনের (ইঞ্জিন-চালিত টমটম) মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায়। গুরুতর আহত হন রাজন ও ইমন। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে দুইজনই মারা যান।
শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা জানান, ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভার কবিরপুরের মসজিদ এলাকা নামক স্থানে গতকাল চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছন থেকে পড়ে আসলাম হোসেন (১৬) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। নিহত আসলাম কবিরপুর গ্রামের নাছেম আলীর ছেলে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বন্ধুর সাথে মোটরসাইকেলে চড়ে যাওয়ার সময় আসলাম হঠাৎ চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শৈলকুপা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত্যু বলে ঘোষণা করে। শৈলকুপা থানার ওসি তদন্ত শাকিল আহমেদ জানান, মোটরসাইকেল থেকে পরে আসলাম নামের এক কিশোর মারা গেছে। কোনো অভিযোগ না থাকাই পরিবারের সদস্যদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, বগুড়ার শেরপুরে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আব্দুস সাত্তার (৯০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার শেরপুর-নন্দীগ্রাম সীমান্তবর্তী ভাদাই ব্রিজ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। তিনি নন্দীগ্রাম উপজেলার বুরইল ইউনিয়নের সোহাগীপাড়া গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, শেরপুর উপজেলার দুবলাগাড়ি এলাকার তিন যুবক মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত গতিতে নন্দীগ্রামের দিকে যায়। কিছুক্ষণ পর তারা মোটরসাইকেল নিয়ে নন্দীগ্রাম থেকে শেরপুরের দিকে ফেরার সময় ভাদাই ব্রিজ পার হয়ে পথচারী আব্দুস ছাত্তারকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শেরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রাজৈর (মাদারীপুর)সংবাদদাতা জানান, রাজৈর উপজেলার কবিরাজপুর ইউনিয়নের টেকেরহাট কবিরাজপুর সড়কের চাঁদপট্টি ছারেকের দোকানের সামনে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইজিবাইক ও টমটমের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- চাঁদপট্টি গ্রামের হান্নান মল্লিকের ছেলে ইমন(১৯) ও একই গ্রামের ছিদ্দু খালাসীর ছেলে রাজন (১৬)।
চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার বানিয়াছড়া এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটকবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উলটে যায়। এ সময় গাড়িতে থাকা ১৫ জন পর্যটক কমবেশি আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কক্সবাজারগামী পর্যটকবাহী একটি বাস বানিয়াছড়া এলাকার এলে একটি টমটম গাড়িকে সাইড দিতে গিয়ে ছিটকে পড়ে উল্টে যায়। এ সময় স্থানীয়রা চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে তাদেরকে উদ্ধার করে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
নলডাঙ্গা (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার নওপাড়া গ্রামের মো: শাকিল সরদার (১৮) নামে এক কলেজশিক্ষার্থী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে এক সপ্তাহ ধরে মুমূর্ষু অবস্থায় আইসিউতে রয়েছে। আহত শিক্ষার্থী নওপাড়া গ্রামের মো: আজিজ সরদারের ছেলে। সে নলডাঙ্গা শহীদ নজমুল হক সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে তার নিজস্ব মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যেয়ে মাথায় আঘাত লেগে গুরুতর আহত হয়। আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। সেখানে এক সপ্তাহ ধরে আইসিউতে আছে এখনো জ্ঞান ফেরেনি।



