৮৮ বছর পর নকআউটে সুইজারল্যান্ডের জয়

Printed Edition

কানাডার পূর্ব প্রান্তের শহর টরন্টোতে যখন ক্রোয়েশিয়ার মডরিচদের বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি, তখন পশ্চিম পাড়ের শহর ভ্যাঙ্কুভারে অন্য ম্যাচ। সেখানে মুখোমুখি সুইজারল্যান্ড ও আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়া। ময়দানি লড়াইয়ের আগে সুইজারল্যান্ড এগিয়ে ছিল। আর মাঠের খেলাতেও তাই। ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেসে যোগ্য দল হিসেবেই জিতেছে সুইজারল্যান্ড। ২-০ গোলে উত্তর পশ্চিম আফ্রিকার দেশটিকে হারিয়ে সুইসারা চলে গেছে সেরা ১৬তে। অন্য দিকে হেরে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে আলজেরিয়াকে।

বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট স্টেজে ইউরোপিয়ান দেশটির এই জয় ৮৮ বছর পর। এর আগে ১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপে তারা সর্বশেষ জয় পেয়েছিল। সেই বিশ্বকাপে তাদের জয় ছিল জার্মানির বিপক্ষে। এ ছাড়া বিশ্বকাপের নকআউট রাউন্ডে ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম ম্যাচে একাধিক গোল পেল সুইসরা। ১৯৫৪ সালে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে ৫-৭ গোলে হেরেছিল অস্ট্রিয়ার কাছে।

বিশ্বকাপের মতো বড় আসর। এই মহাযজ্ঞে সামান্য ভুলেরও কড়া মাশুল দিতে হয়। আলজেরিয়ার দ্বিতীয় গোলটি তাদের ডিফেন্ডারের সেই মারাত্মক ভুলেরই খেসারত। প্রথমার্ধের ১০ মিনিটে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে সব দলই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। তবে ডেজার্ট ফক্স-খ্যাত আলজেরিয়া সেই সুযোগও পায়নি তাদের ডিফেন্ডার ভুল করলে। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তিনি সেই বল জমা দেন সুইজারল্যান্ডের ডন অ্যানডোয়ার পায়ে। ব্যাস যায় কোথায়! তার সেখান থেকে ডান পায়ের কোনাকুনি শটে পরাস্ত আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান।

এর আগে ম্যাচের ১০ মিনিট বয়সে মুরাদ এয়াকিনের দলের এগিয়ে যাওয়া জোয়ান মানজাম্বির দারুণ এক পাসে। গতি আর স্ক্রিল দিয়ে তিনি ঢুকে পড়েন আলজেরিয়ার বক্সে। এরপর গোললাইনের কিছুটা সামনে তিনি যে সেন্টার করেন তাতে পা লাগান বিরিল এমবোলো। বল তার পায়ের ছোঁয়া দিয়ে চলে যায় জালে। ব্যাস মোটামুটি তখনই ম্যাচের সব আকর্ষণ শেষে।

তবে আলজেরিয়া বিরতির পরও চেষ্টা করেছিল গোল করার। একটি গোলই পাল্টে দিতে পারে ম্যাচের চিত্র। এর মধ্যে ফারেস চাইবির শট প্রতিহত হয় গোলরক্ষক কর্তৃক।

এই ম্যাচ যেমন নক আউট পর্বে জয়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েছে স্ইুজারল্যান্ডের, তেমনি আলজেরিয়াকে আবারো নকআউটে ম্যাচ জয়ের অপেক্ষায় থাকতে হলো। ২০১৪ সালেও আলজেরিয়া দ্বিতীয় রাউন্ডে হেরেছিল। তবে সেই দলের তুলনায় এবারের দলকে দুর্বলই মনে হয়েছে। বিশ্বকাপে এই প্রথম টানা তিন ম্যাচ জিতেছে সুইজারল্যন্ড।