মুক্তিযুদ্ধ বাদ দিলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকে না : তারেক

বিশেষ সংবাদদাতা
Printed Edition
গুলশানে বিএনপি চেয়ারপাসনের কার্যালয়ে জোট নেতাদের সাথে মতবিনিময় করেন তারেক রহমান : নয়া দিগন্ত
গুলশানে বিএনপি চেয়ারপাসনের কার্যালয়ে জোট নেতাদের সাথে মতবিনিময় করেন তারেক রহমান : নয়া দিগন্ত

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ হলো আমাদের ভিত্তি। মুক্তিযুদ্ধ বাদ দিলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকে না। কাজেই ‘৯০’এর গণ-অভ্যুত্থান এবং ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের যে আকাক্সক্ষা সেগুলোকে ধরেই আমাদেরকে অগ্রসর হতে হবে।

গতকাল গুলশান কার্যালয়ে বাম দলগুলোর জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ নেতাদের সাথে বৈঠককালে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশঙ্খলা- অর্থনৈতিক অবস্থা, আসন্ন সংসদ, উগ্রবাদের উত্থান ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্কাফী রতন, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, স্থায়ী কমিটির সদস্য মোস্তাক হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার ও বাসদ (মার্ক্সবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা।

বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৯ নভেম্বর এয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাসদকে নিয়ে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট গঠন করে ৯টি বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল।

বৈঠকের পরে বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, প্রধানত বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তার সন্তান হিসেবে এবং পরিবারবর্গকে সমবেদনা জানাতে আমরা গিয়েছি। উনি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন । আসার পরে মাতৃবিয়োগে শোকাহত পরিবার ও দল। সেজন্য আমরা সহমর্মিতা সমবেদনা জানাতে এসেছি।

‘একাত্তর আমাদের ভিত্তি’

বজলুর রশীদ বলেন, তারেক রহমান বলেছেন যে, আমি ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পরেই বক্তব্যে যেটা বলছি যে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ হলো আমাদের ভিত্তি। মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিলে বাংলাদেশে এর অস্তিত্ব থাকে না, কাজেই সেটা ’৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান এবং ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের যে আকাক্সক্ষা সেগুলোকে ধরেই আমাদেরকে অগ্রসর হতে হবে। তিনি বলেছেন এখানে বিশ্বাসী থাকবে, অবিশ্বাসী থাকবে, সংশয়বাদী থাকবে সবাইকে নিয়েই আমাদেরকে এখানে চলতে হবে। আমরা একটা উদার গণতান্ত্রিক, কল্যাণমূলক যে রাষ্ট্র সেই রাষ্ট্রের পরিকল্পনা আমাদের আছে। আমরা সেইভাবেই কাজ করতে চাই এবং অতীত থেকে আমরা শিক্ষা নিতে চাই এবং জনগণ আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।

রশীদ বলেন, তিনি বলেন আমাদের বিরোধী দল থাকবে অপোজিশন থাকবে। আপনাদের সাথে হয়তো অনেক বিষয় আমাদের মতপার্থক্য আছে, থাকবে কিন্তু আবার দেশের প্রশ্নে জনগণের প্রশ্নে সেগুলো আমরা নিশ্চয়ই বিনিময় করব। মাঝে মাঝে আপনাদের পরামর্শ থাকলে আমাদেরকে দিবেন। আমরা যেটা গ্রহণ করার সেটা আমরা গ্রহণ করব। এরকম বললেন যে একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে উঠুক। আমরা বলছি যে একটা পলিটিক্যাল কালচার এখানে গড়ে তোলা দরকার যে, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমত সহিষ্ণুতা, ফিলোসফিক্যাল টলারেন্স যেটা গণতন্ত্রের একটা পূর্ব শর্ত এবং সেখানে একটা নির্বাচন সুষ্ঠু নির্বাচন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সেগুলোর কথা আমরা বললাম।

বজলুর রশীদ বলেন, আমরা বলছি যে একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী শক্তি স্বাধীনতাবিরোধী তারা যাতে বাংলাদেশের মধ্যে রাজনীতিতে সেই ভাবে না আসতে পারে এবং জাতীয় সরকারে না থাকতে পারে। উনি (তারেক রহমান) এটা বললেন যে, আমাদের সাথে এই বিষয়ে কোনো কথা হয় নাই। বাইরে তারা এটা বলছেন। আমাদের সাথে এখানে এই বিষয় নিয়ে কোনো কথা বলে নাই। শুধু বলেছে যে দেশের প্রশ্নে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সেখানে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে সেটুকু কথা হয়েছে। আমরা বলছি সেখানে অবশ্যই যে মত পথের ভিন্নতা থাকলেও দেশের প্রশ্নে জনগণের প্রশ্নে, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এগুলোর প্রশ্নে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা দরকার। ভিন্ন ভিন্ন মত থাকবে ভিন্ন পথ থাকবে। কিন্তু এই প্রশ্নে এক থাকা দরকার। আমাদেরকেও সেটা উনি বলছেন যে মতভিন্নতা থাকবে সমালোচনা থাকবে।

এর আগে মরহুমা খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক বইতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা স্বাক্ষর করেন।

তারেক রহমানের সাথে গতকাল মাহমুদুর রহমান মান্না, জোনায়েদ সাকী, ডা: মোস্তাফিজুর রহমানসহ তার দলের নেতারাও সাক্ষাৎ করেন।