রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে পৃথক টেলিফোন আলাপ করেছেন। ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান খোঁজার বিষয়ে তিনি তাদের সাথে আলোচনা করেছেন। আগামী সপ্তাহে তুরস্কে অনুষ্ঠেয় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে গত শনিবার পুতিনের সাথে প্রায় ৯০ মিনিট ধরে ট্রাম্পের এই ফোনালাপ হয় বলে গতকাল রোববার ভোরে নিশ্চিত করেছেন পুতিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ।
উশাকভ এই আলাপকে ‘বেশ গঠনমূলক’ উল্লেখ করে জানান, ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ বন্ধে ও সঙ্কটের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানে সহায়তার প্রস্তুতি প্রকাশ করেছেন, তবে রাশিয়া তাদের মৌলিক অবস্থান বিবেচনায় রেখেই এই সমাধান চায়। ফোনালাপে পুতিন ট্রাম্পকে জানান যে যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনী ধারাবাহিকভাবে অগ্রসর হচ্ছে, যার অংশ হিসেবে গত শুক্রবার পূর্ব ইউক্রেনের কৌশলগত শহর কস্তিয়ানতিনিভকা দখলের দাবি করে মস্কো। তবে গতকালই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও দেশটির জেনারেল স্টাফ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানান শহরটি এখনো ইউক্রেনীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণেই আছে। অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের যেকোনো সমাধানে পুরো দনবাস অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ মস্কোর হাতে ছাড়ার রুশ দাবি আগেই প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন, এমনকি গত মাসে জেলেনস্কির মুখোমুখি বৈঠকের প্রস্তাবও নাকচ করেন পুতিন।
উশাকভের অভিযোগ, ইউক্রেন ও তাদের ইউরোপীয় মিত্ররা রাশিয়ার তেলশিল্প-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে জ্বালানিসঙ্কট তৈরি করছে এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করাসহ বেসামরিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। ফোনালাপে ট্রাম্প জানিয়েছেন যে তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার মধ্যস্থতার জন্য প্রয়োজনে আবারো মস্কো সফরে যেতে প্রস্তুত, যদিও ইরানের সাথে চলমান সঙ্ঘাতের কারণে ওয়াশিংটনের মনোযোগ সেদিকে থাকায় বর্তমানে ইউক্রেন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগ কিছুটা স্থবির। এ দিকে গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেয়া পোস্টে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও ট্রাম্পের সাথে তার ফোনালাপকে ‘খুবই ভালো’ বলে অভিহিত করেছেন। জেলেনস্কি জানান, প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তারা একমত হয়েছেন যে এই যুদ্ধের অবসান হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগামী ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে এই আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়েও দুই নেতা একমত হয়েছেন।
এদিকে দ্য হিল জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রাক্কালে মাউন্ট রাশমোরের ঐতিহাসিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের পুরনো আক্ষেপের ঝাঁপি নতুন করে খুলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও অলিম্পিকের জয়গাথা শোনানোর একপর্যায়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আটটি বড় যুদ্ধ মিটমাট করার পরও তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়া হয়নি। বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে আমেরিকানরা সবচেয়ে বেশি নোবেল জিতলেও তার কপালে একটিও জোটেনি বলে আক্ষেপ করেন তিনি। অবশ্য সমালোচকদের মতে এতগুলো যুদ্ধ থামানোর দাবিটি ট্রাম্পের একটি পরিচিত অতিরঞ্জিত বয়ান মাত্র। ঐতিহাসিক রেকর্ড অনুযায়ী, মানবজাতির কল্যাণে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পর্যন্ত ৪২০ জনের বেশি মার্কিন নাগরিক এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পেয়েছেন। হোয়াইট হাউজের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, ট্রাম্প এই আন্তর্জাতিক সম্মাননাকে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত স্বীকৃতি মনে করেন এবং এর জন্য বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে তদবিরও করেছেন। এমনকি গত জানুয়ারি মাসেও তিনি দাবি করেছিলেন, ইতিহাসে তার চেয়ে বেশি কেউ নোবেল পাওয়ার যোগ্য নন। তবে গত ২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ভেনিজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো তার মেডেলটি ট্রাম্পকে দেয়ার প্রতীকী ঘোষণা দিলে নোবেল কমিটি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পদক যার হাতেই যাক না কেন, ইতিহাসে মূল প্রাপকের নামই বিজয়ী হিসেবে নথিবদ্ধ থাকবে। মার্কিন ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কেবল উড্রো উইলসন ও বারাক ওবামাই ক্ষমতাসীন অবস্থায় এই পুরস্কার পেয়েছেন।
এদিকে ট্রাম্পের এই নোবেল পাওয়ার তীব্র আকাক্সক্ষা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি রসিকতা করে বলেন, ট্রাম্প অন্তত ৩৮ বার ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ শেষ করার রেকর্ড গড়েছেন, যা নোবেল কমিটির বিশেষ স্বীকৃতির দাবি রাখে। হান্টার ব্যঙ্গাত্মক সুরে আরো যোগ করেন, ইতিহাসে কোনো প্রেসিডেন্ট একই যুদ্ধ এতবার শেষ করতে পারেননি, অথচ বাস্তবে তিনি এটি শেষ করার ধারেকাছেও যাননি।



