মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে পদ্মা নদীতে নৌচ্যানেল চার্জ আদায়কে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে নদীতে নৌযানে হামলা, মারামারি, পাল্টাপাল্টি মামলা, মানববন্ধন, ঝাড়– মিছিল ও বিস্ফোরণের ঘটনায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মা নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড থেকে নৌচ্যানেল চার্জ আদায়কে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন হরিরামপুর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আবু সাদাত মো: শাহিন (মোল্লা শাহিন)। অন্য পক্ষের মধ্যে রয়েছেন বাল্কহেড মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
গত সোমবার মোল্লা শাহিনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ তুলে ঝাড়– মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন যুবদলের একাংশের নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা। মিছিলটি পদ্মা নদীর ঘাটের দিকে যাওয়ার সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে আয়োজকেরা দাবি করেন। এ ঘটনায় তারা মোল্লা শাহিন ও তার অনুসারীদের দায়ী করেন। তবে হরিরামপুর থানার ওসি মুহাম্মদ আফজাল হোসেন বলেন, বিস্ফোরণের মতো একটি শব্দ শোনা গেলেও সেটি ককটেল বিস্ফোরণ বলে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। থানার এক থেকে দেড় শ’ গজ দূরে একটি বোতলের ভেতর কয়েকটি চকোলেট পটকা পাওয়া গেছে।
মোল্লা শাহিনের দাবি, বিআইডব্লিউটিএ নির্ধারিত চ্যানেল চার্জ আদায় করতে গেলে বাল্কহেড মালিকপক্ষের লোকজন তাদের ওপর হামলা করে কয়েকজনকে আহত করেছে। আহত ব্যক্তিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্য দিকে বাংলাদেশ বাল্কহেড মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল খান অভিযোগ করেন, তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অতিরিক্ত টাকা আদায় এবং কর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তারা আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অভিযোগ করেছেন।
জামাল খান দাবি করেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পদ্মা নদীর নির্দিষ্ট অংশের নৌচ্যানেল চার্জ আদায়ের ইজারা দেয়া হলেও এবার হরিরামপুরের অংশও এর আওতায় আনা হয়েছে। তার ভাষ্য, হরিরামপুরের লেছড়াগঞ্জ বালুমহাল থেকে প্রতিদিন প্রায় ১২০টি বাল্কহেড চলাচল করে। নির্ধারিত হারে চার্জ আদায় করলে বছরে সম্ভাব্য আয় প্রায় ২১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। তার প্রশ্ন, এই সম্ভাব্য রাজস্ব ইজারা মূল্যে প্রতিফলিত হয়নি কেন। বিআইডব্লিউটির আরিচা নদীবন্দর এলাকার উপপরিচালক সুব্রত রায়ের কাছে ইজারার সীমানা ও রাজস্বসংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত নথি প্রধান কার্যালয়ে রয়েছে।



