পর্তুগালে দাবানল নেভাতে মাঠে ২ হাজার দমকলকর্মী

Printed Edition

ইউরোনিউজ

তীব্র খরা ও চরম শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে পর্তুগালজুড়ে ছড়িয়ে পরা ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দুই হাজারের বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী। তাদের সাথে উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে অন্তত ২০টি বিশেষ অগ্নিনির্বাপক বিমান।

গতকাল দেশটির সিভিল প্রোটেকশন ওয়েবসাইটের বরাতে জানা যায়, পর্তুগিজ ভূখণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে একের পর এক ল্যান্ডফায়ার ছড়িয়ে পড়ায় দেশটি এখন মারাত্মক অগ্নিঝুঁকির মুখে রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। আবহাওয়ার বৈরী রূপ বিবেচনায় নিয়ে পর্তুগিজ ইনস্টিটিউট ফর সি অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ার গতকাল বিকেল পর্যন্ত দেশের ৯টি জেলায় অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি রেখেছিল। এ ছাড়া রাজধানী লিসবন, সেতুবাল ও ফারো ছাড়া সমগ্র মূল ভূখণ্ডজুড়ে ইয়োলো অ্যালার্ট বলবৎ করা হয়েছে। জাতীয় জরুরি ও সিভিল প্রোটেকশন অথরিটির এক সতর্কবার্তায় বলা হয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতার পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে উত্তর ও মধ্যঞ্চলের অভ্যন্তরীণ জেলাগুলোতে দাবানল আরো ভয়াবহ রূপ নেয়ার চরম আশঙ্কা রয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার তাগিদ দেয়া হয়েছে।

বর্তমানে সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ব্রাগানসা জেলার তোরে দে মনকোর্ভো এলাকায়। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই আগুনে ইতোমধ্যে দুই হাজার হেক্টরের বেশি বনভূমি ধ্বংস হয়ে গেছে। সেখানে আগুন নেভাতে প্রায় ১৪০টি বিশেষ যানবাহনসহ চার শ’র বেশি দমকলকর্মী নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। স্থানীয় মেয়র জোসে মেনেসেস জানান, একটি সক্রিয় অংশ এখনো জ্বলতে থাকলেও গতকাল বিকেলের দিকে আগুন অনেকটা আয়ত্তে আনা সম্ভব হয়েছে।