দুর্গাপুর (রাজশাহী) সংবাদদাতা
ভালো দাম ও লাভজনক হওয়ায় রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় বাড়ছে কদম পেঁয়াজ বীজের চাষ। এবারো পেঁয়াজ বীজের ভালো দামের আশায় নতুন স্বপ্ন দেখছেন এখানকার কৃষকরা। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজের চাষ হয়েছে।
তবে এ বছর চাষিদের বেশি দামে বীজ কিনতে হয়েছে। প্রতি মণ কদম পেঁয়াজের বীজ তিন হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা দরে কিনে বপন করতে হয়েছে তাদের।
গত সোমবার (১৬ মার্চ) সরেজমিন দেখা যায়, পৌর এলাকার দেবীপুর, গোড়খাই ও রৈপাড়া গ্রামসহ উপজেলার শ্যামপুর, নওপাড়া, পালশা, শিবপুর, নান্দিগ্রাম, ঝালুকা খাসখামার ও পানানগর গ্রামে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে থোকায় থোকায় সাদা কদম পেঁয়াজের ক্ষেত। ক্ষেতজুড়ে সারি সারি সাদা ফুল যেমন চোখ জুড়ায়, তেমনি কৃষকদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকেও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের কৃষক আক্কাছ আলী জানান, তিনি গত বছর এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজের চাষ করে লাভবান হয়েছিলেন। তাই এ বছর দেড় বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজের চাষ করেছেন। একই এলাকার কৃষক অনছের আলী প্রায় দুই বিঘা জমিতে কদম পেঁয়াজের চাষ করেছেন। দাম ভালো থাকলে এ ফসল থেকে লাভের আশা করছেন তারা।
পৌর এলাকার গোড়খাই গ্রামের পেঁয়াজ বীজ চাষি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ভালো বীজ থেকে ভালো পেঁয়াজের ফলন পাওয়া যায়। তাই তিনি নিজের উৎপাদিত বীজ থেকেই পেঁয়াজ চাষ করেন। এবার তিনি এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজের চাষ করেছেন। তবে এ ফসলের পরিচর্যা বেশি লাগে। কৃত্রিমভাবে পরাগায়নের প্রয়োজন হওয়ায় শ্রমিক, মজুরি ও কীটনাশকের খরচও বেশি হয়। তাই সময়মতো পরিচর্যা করতে হয়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দুর্গাপুর উপজেলায় প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজের চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষেতে পেঁয়াজ বীজের বড় বড় থোকা বের হতে শুরু করেছে। কৃষকদের আশা, এবার বাম্পার ফলন হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা পারভীন লাবনী বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধিতে উন্নতমানের বীজের ভূমিকা অনেক। পরাগায়নের সময় কৃষকদের সচেতন থাকতে হবে এবং বিভিন্ন জাতের মধ্যে যেন মিশ্রণ না ঘটে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। তিনি আরো জানান, এবার এখন পর্যন্ত কদম পেঁয়াজে তেমন কোনো রোগবালাই দেখা যায়নি। ফলে ভালো ফলনের সম্ভাবনাই রয়েছে।



