বিএনপি ব্যর্থ হয়ে সাইবার আক্রমণ করছে : গোলাম পরওয়ার

Printed Edition
নারায়ণগঞ্জের শিমরাইল মোড় ট্রাকস্ট্যান্ড মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মিয়া গোলাম পরওয়ার  : নয়া দিগন্ত
নারায়ণগঞ্জের শিমরাইল মোড় ট্রাকস্ট্যান্ড মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মিয়া গোলাম পরওয়ার : নয়া দিগন্ত

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

সবদিক থেকে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি এখন জামায়াতে ইসলামীর ওপর সাইবার আক্রমণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, একবার জামায়াতকে পরীক্ষা করুন, জামায়াত বিজয়ী হলে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত নতুন বাংলাদেশ পাবে দেশের মানুষ। গতকাল বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে জেলা জামায়াতের আয়োজনে নির্বাচনী জনসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, বিএনপি এখন বলে ফ্যামিলি কার্ড দিবে। এটা ভুয়া, ভুয়া। ভুয়া বলারও তো একটা লিমিট আছে। দেশে মানুষ আছে ১৮ কোটি অথচ তারা নাকি ৫০ কোটি কার্ড দেবেন। ভুলে গেলে চলবে না ইতোপূর্বে আপনারাই একবার ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিলেন বেকার ভাতা দেবেন। সেই ভাতার রেজাল্ট কোথায়?

গোলাম পরওয়ার বলেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছর যারা এই দেশ শাসন করেছে, তাদের এখন লালকার্ড দেখাতে হবে। তারা নৈতিকতা, দেশপ্রেম, সততায় আর মানবিকতায় ব্যর্থতা দেখিয়েছে। এ দেশকে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি শাসন করেছেন। এই তিন দলকে যদি প্রশ্ন করা হয়, রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দুর্নীতি, দলীয়করণ, আর নির্যাতন কেন বন্ধ করে নাই তখন তারা উত্তর দিতে পারবে না। এর অন্যতম কারণ প্রত্যেকটি দল শোষণ করেছে।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি বঙ্গভবন ও ইন্ডিয়ার প্যাকেজ প্রোগ্রামের মাধ্যমে জামায়াতের জনপ্রিয়তা ক্ষুণœ করার জন্য সাইবার অ্যাটাক শুরু করেছে। বর্তমানে মানুষকে বলে বেড়ানো হচ্ছে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি পশ্চিম পাকিস্তান হয়ে যাবে। আবার কেউ কেউ ভোট দিতে গেলে ঠ্যাং ভেঙে দেয়ার হুমকি দেয়া দিচ্ছে। আসছে নির্বাচনের জন্য প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা দেয়ার দাবি জানিয়েছিলাম। আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার সিসি ক্যামেরার অর্থ বরাদ্দ করেছেন। বডি ক্যামেরা থাকবে। আপনারা মনে রাখবেন, মাস্তান পার্টিরা কেউ কিছু করতে গেলেই ধরা খেয়ে যাবে। এই নির্বাচনে সেনাবাহিনী, বিজিবি মোতায়েন থাকবে।

শামীম ওসমানকে ‘গডফাদার’ উল্লেখ করে জামায়াতের এ নেতা বলেন, ‘এই নারায়ণগঞ্জ নানা কারণে আলোচিত-সমালোচিত। এই নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ডে একজন গডফাদার, তিনি নিজেকে অত্যন্ত সাহসী, নির্ভীক ও লৌহমানব বলে দাবি করতেন। উনি লিখে রেখেছিলেন- জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের এই নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ নিষেধ। আমি এই রাস্তা দিয়ে যেতাম, আসতাম আর এই সাইনবোর্ডটা দেখতাম।’

‘আজকেও আসার পথে স্মরণ করছিলাম। এইখানে জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ, আসতে পারবে না এই শহরে। কিন্তু আল্লাহর হুকুম তারা মনে রাখে না। মানুষের কোনো ইচ্ছাই পূরণ হয় না, যতক্ষণ আল্লাহ তাআলা পূরণ না করেন। উনি (শামীম ওসমান) ইচ্ছা করেছিলেন, জামায়াতকে এখানে ঢুকতে দিবে না। কিন্তু আল্লাহ তাআলা জামায়াতকেই প্রবেশাধিকার দিয়ে, তাকেই ঢোকা নিষেধ করে দিয়েছে।’

গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, ‘ওনাদের নেত্রীও এই রকম ভাবতেন। বিস্ময়কর গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অত্যন্ত লজ্জাজনকভাবে কাপুরুষের মতো এদেশ থেকে তাকে পালিয়ে যেতে হয়েছে। এইখান থেকে জামায়াতে ইসলামীকেও অনেক কিছু শেখার আছে। জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগেরও শেখার আছে। কখনো দম্ভ, অহংকার, আক্রোশে নিজেকে বেপরোয়া মনে করতে হয় না।

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামী আমির মাওলানা আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে এবং জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবু সাঈদ মুন্নার সঞ্চালনায় সমাবেশে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ, মহানগরী নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াত সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মানোয়ার হোসাইন, জেলা সেক্রেটারি মো: হাফিজুর রহমান এবং ৫টি সংসদীয় আসনের ১১ জোটের মনোনীত প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।