নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় সঙ্ঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া রায়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। রায়টিকে ‘আইনগতভাবে অসঙ্গত’ ও ‘জুলাই আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থী’ আখ্যা দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন তারা। বেলা আড়াইটার দিকে শহীদ পরিবারের আটজন সদস্য স্বাক্ষরিত এ স্মারকলিপিটি প্রদান করা হয়। শহীদ পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার ঘোষিত ওই রায়ে পুলিশের সাবেক কমিশনারসহ তিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলেও সরাসরি জড়িত মাঠপর্যায়ের অভিযুক্তদের অত্যন্ত লঘু দণ্ড দেয়া হয়েছে, যা তাদের হতাশ করেছে।
স্মারকলিপিতে শহীদ পরিবারের সদস্যরা রায়ের বিষয়ে তাদের উদ্বেগ ও হতাশার পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন, প্রথমত, রায়টি আইনগতভাবে সঙ্গত নয় কারণ সুস্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও তা রায়ে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি, যা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সাথে সাংঘর্ষিক। দ্বিতীয়ত, প্রিন্সিপাল অফেন্ডার বা মূল অপরাধীদের অপর্যাপ্ত শাস্তি এবং সুপিরিয়র কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করায় ভবিষ্যতে উচ্চ আদালতে এ রায় টিকবে কি না, সে বিষয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। তৃতীয়ত, চানখাঁরপুলের এ রায়টি সম্পূর্ণরূপে জুলাই আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থী বলে তারা মনে করেন। এর ফলে এক হাজার ৪০০ শহীদ পরিবারের সদস্যরা চরমভাবে মর্মাহত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন। চতুর্থত, এ রায় ভবিষ্যতে একটি নেতিবাচক নজির হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ায় অনাকাক্সিক্ষত প্রভাব ফেলতে পারে।
স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নারকীয় সহিংসতায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তারা জাতির ইতিহাসে শহীদ হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাদের এ মহান আত্মত্যাগ দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে আরো শক্তিশালী করেছে। এ অবস্থায় শহীদ পরিবারের সদস্যরা ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ ও আন্দোলনের চেতনার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের স্বার্থে রায়টি পুনর্বিবেচনার জন্য ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।
উল্লেখ্য, চানখাঁরপুলের এ মামলায় মোট আটজন আসামিকে দণ্ড দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। তারা হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ্ আলম মো: আখতারুল ইসলাম। বাকি পঁাঁচ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ডিএমপির রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছরের কারাদণ্ড; শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো: আরশাদ হোসেনকে চার বছরের কারাদণ্ড এবং সাবেক কনস্টেবল মো: সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ও মো: নাসিরুল ইসলামকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।



