নিজস্ব প্রতিবেদক
একটি ঘূর্ণিঝড় ও একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ অবস্থান করছে। একটি শ্রীলঙ্কা উপকূলে অন্যটি কিছুটা দূরে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণে মালাক্কা প্রণালীতে। ঘূর্ণিঝড়টি সেখানে অবস্থান করলেও শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছে যে লঘুচাপটি বিরাজ করছে সেটি ইতোমধ্যে নিম্নচাপের আগের ধাপ সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়ে সন্ধ্যা ৬টায় একই এলাকায় (৪.৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৭.৮ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে। এটি আরো উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ও ঘনীভূত হয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
আবহাওয়া অফিস বলছে, মালাক্কা প্রণালীতে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়টির নাম দেয়া হয়েছে ‘শেন ইয়ার’। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবহাওয়া দফতরের দেয়া নাম। শেন ইয়ারের বাংলা অর্থ সিংহ। ঘূর্ণিঝড় শেন ইয়ার মালাক্কা প্রণালী থেকে আরো কিছুটা পূর্বদিকে অগ্রসর হতে পারে। ফলে ঘূর্ণিঝড়টি কখনো বাংলাদেশের দিকে আসার কোনো আশঙ্কা নেই। এটা সাগরেই দুর্বল হয়েছে আবার নিম্নচাপ হয়ে ক্রমেই লঘুচাপে পরিণত হয়ে গুরুত্বহীন হয়ে যেতে পারে। অন্য দিকে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন শ্রীলঙ্কা উপকূলের লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হলেও তা থেকে ঘূর্ণিঝড় হওয়ার আশঙ্কা কম। এটাও সাগরেই লঘূচাপ হয়ে গুরুত্বহীন হয়ে যেতে পারে।
বঙ্গোপসাগরের এই দু’টি চাপ শেষ হয়ে গেলে এই মৌসুমে আর ঘূর্ণিঝড় হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে দু’টি প্রাকৃতিক চাপের একটির প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাংলাদেশে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়ার বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে বিচরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে।
কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশী আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বিরাজমান সুস্পষ্ট লঘুচাপটি বৃহস্পতিবারের মধ্যে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসারে শ্রীলঙ্কার পাশে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলেও এটি উত্তর বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের উপকূলে পৌঁছানোর আশঙ্কা কমে গেছে। অর্থাৎ, সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়টি মধ্য বঙ্গোপসাগরেই শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নির্দেশ করছে আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেলগুলো।
কৃষকদের জন্য পরামর্শ : আশঙ্কিত ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে মাসের ৪ থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের উপরে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
ফলে জমিতে থাকা পাকা আমন ধান কাটা ও মাড়াই করা শেষ করতে পারলে ক্ষয়ক্ষতি থেকে বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। শীতকালীন শাকসবজি চাষিদের সম্ভাব্য এই বৃষ্টিপাতের কথা মাথায় রেখে বীজ বোনা ও জমিতে সেচ দেয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রাখার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড় ও অথবা সাগরে লঘুচাপ থাকলেও ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া বিরাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে।



