আলজাজিরা
রুশ-অধিকৃত ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় উপদ্বীপটির সবচেয়ে বড় শহর সেভাস্তোপলে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উভয় পক্ষের সরকারি বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ২০১৪ সালে রাশিয়ার সাথে যুক্ত হওয়া এই উপদ্বীপে সাম্প্রতিক সময়ে কিয়েভ তাদের আক্রমণের তীব্রতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী এই অঞ্চলে রাশিয়ার রসদ সরবরাহের পথগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করায় এবং দক্ষিণ রাশিয়া জুড়ে একাধিক তেল শোধনাগার ও ডিপো ধ্বংস করায় ক্রিমিয়া প্রশাসন সাধারণ মানুষের কাছে জ্বালানি বিক্রি সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। সেভাস্তোপলের মস্কো-নিযুক্ত গভর্নর মিখাইল রাজভোঝায়েভ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর ইউক্রেনের হামলার পর এই ব্ল্যাকআউটের খবর নিশ্চিত করেন। বুধবার তিনি বাসিন্দাদের উদ্দেশে আহ্বান জানান যেন তারা অসহায় প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়ান এবং ব্যাটারি বাঁচাতে ও গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে মোবাইল ফোনগুলো কেবল জরুরি যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজভোঝায়েভ লিখেছেন, শত্রু আবারো বিশ্বাসঘাতকতার সাথে হামলা চালাচ্ছে। তারা আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পরিবেশ কেড়ে নিতে এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়াতে চাইছে। তিনি জানান, শহরের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে এবং সেখানে অন্তত বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে। এ ছাড়া বুধবার সেভাস্তোপলে ট্রলিবাস চলাচল বন্ধ থাকবে উল্লেখ করে তিনি অভিভাবকদের অনুরোধ করেছেন যেন তারা সন্তানদের বাড়িতেই রাখেন। এ দিকে নিকটবর্তী ইউক্রেনের রুশ-নিয়ন্ত্রিত খেরসন অঞ্চলের কিছু অংশ বা পুরো এলাকা সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে বলে আলাদাভাবে জানিয়েছেন সেখানকার মস্কো-নিযুক্ত গভর্নর ভøাদিমির সালদো। তবে এই বিষয়ে তিনি বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দেননি।
রণাঙ্গন থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে রাশিয়ার নিঝনি নভগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের পৃথক ড্রোন হামলায় দু’জন এবং সীমান্ত এলাকা বেলগোরোদে একজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় গভর্নররা জানিয়েছেন। অন্য দিকে ইউক্রেনের সীমান্ত অঞ্চল খারকিভে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ৫৬ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।



