নয়া দিগন্ত ডেস্ক
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন দেশটির সাধারণ মানুষ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার ব্যর্থতা তদন্তে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠনের দাবি তুলেছেন তারা। গত শনিবার তেলআবিবের মধ্যাঞ্চলে প্রায় এক হাজার ইসরাইলি এই বিক্ষোভে অংশ নেন।
হারেৎজ ও ইয়েদিওথ আহারোনোথসহ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক ব্যর্থতার সমালোচনা করতে হাবিমা স্কয়ারে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। এক বিক্ষোভকারীর মতে, ‘ইসরাইলে নতুন বাস্তবতা নির্মাণের সঠিক উপায় হলো একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিশন গঠন করা।’ তিনি সরকারকে অহংকার ও আত্মমগ্নতার জন্য অভিযুক্ত করে জানান, সরকার নাগরিকদের প্রতি অবজ্ঞা দেখাচ্ছে। ইসরাইলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধের মাঝেও তারা নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় বিতর্কিত আইন পাসের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, যা বিভাজন তৈরি করছে।
৭ অক্টোবরের হামলার ঘটনা তদন্তে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত একটি কমিশন গঠনের বিলে নেসেট প্রাথমিক অনুমোদন দেয়ার কয়েক দিন পর এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলো। ওই হামলায় ইসরাইলে প্রায় এক হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন। এর জেরে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের চালানো গণহত্যায় এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে প্রায় এক হাজার ১০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নেসেটের ওই ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে ৫৯ জন আইনপ্রণেতা ভোট দেন এবং বিপক্ষে কেউ ভোট দেননি। তবে বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা এই ভোট বয়কট করেন। তাদের দাবি, সরকারের নিজস্ব কার্যক্রম তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো সংস্থার সদস্য নির্বাচনে সরকারের কোনো ভূমিকা থাকা উচিত নয়।
ব্যাপক আইনি ক্ষমতাসম্পন্ন একটি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন নেতানিয়াহু। এর বদলে তিনি এমন একটি রাজনৈতিক প্যানেলকে সমর্থন দিচ্ছেন, যার গঠন ও কার্যক্রমে সরকারের প্রভাব থাকবে।



