রাবিতে লির্নাকের উদ্যোগে ক্ষতিকর উদ্ভিদ পার্থেনিয়াম অপসারণ কর্মসূচি

Printed Edition
পার্থেনিয়াম আগাছায় ভরা রাবি ক্যাম্পাসের একটি স্থান। ইনসেটে উচ্ছেদ অভিযান উদ্বোধনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা
পার্থেনিয়াম আগাছায় ভরা রাবি ক্যাম্পাসের একটি স্থান। ইনসেটে উচ্ছেদ অভিযান উদ্বোধনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা

বিশেষ সংবাদদাতা

গতকাল মঙ্গলবার রাবিতে পরিবেশবিষয়ক সংগঠন লির্নাকের উদ্যোগে ক্ষতিকর আগ্রাসী উদ্ভিদ পার্থেনিয়াম অপসারণ কর্মসূচি চলে। রাবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড: মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন ও ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড: মো: আমিরুল ইসলামের উপস্থিতিতে উদ্বোধন করা হয় পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি সাধনকারী এই আগাছা পার্থেনিয়াম অপসারণ কর্মসূচি। অনুষ্ঠানে লিনার্কের ৭০ জন পরিবেশকর্মী ৫ ঘণ্টাব্যাপী পার্থেনিয়াম উদ্ভিদ অপসারণ করে। বেলা ১১টা থেকে পরিবেশবাদী এই সংগঠন তাদের কার্যক্রম শুরু করে এবং পড়ন্ত বিকেল পর্যন্ত চলে পার্থেনিয়াম অপসারণ কার্যক্রম। সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও রাবির উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের বর্তমান সভাপতি প্রফেসর ড: সাবরিনা নাজের গৌতম মণ্ডল এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহিদা শারমিন আফরোজ।সার্বিক তত্ত্বাবধানে কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়।

উল্লেখ্য, বিষাক্ত এই আগাছা পার্থেনিয়ামের একেকটি উদ্ভিদ তার জীবদ্দশায় ২৫০০০ বীজ উৎপাদন করতে সক্ষম। এই গাছ স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ঝুঁকিসহ মানুষ ও গবাদিপশুর স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এই উদ্ভিদের উপস্থিতির কারণে মৌসুমি ফসলসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্যের উৎপাদন হ্রাস পায়। নিরাপদ পরিবেশের জন্য পার্থেনিয়াম অপসারণ আন্দোলন অতি জরুরি।

ভারতবর্ষসহ বাংলাদেশে খুব দ্রুত গতিতে বেড়ে চলেছে ক্ষতিকর এই আগাছা। আগাছার ফুলের রেণুতে অবস্থিত “সেস্কুটার্পিন ল্যাকটোন” জাতীয় বিষাক্ত পদার্থ “পার্থেনিন “ অনেক ক্ষতিকর। এর রেণু বাতাসে মিশে মানুষের হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। যাদের অ্যালার্জি সমস্যা আছে তাদের পার্থেনিয়ামের সংস্পর্শ থেকে বেশি সচেতন থাকতে হবে। কারণ তাদের চামড়ায় এই গাছের রস লাগালে, সেখানে ক্যান্সার হতে পারে।

পার্থেনিয়াম আগাছা ভক্ষণের ফলে মহিষ, ঘোড়া, গাধা, ভেড়া ও ছাগলের মুখে ও পৌষ্টিকতন্ত্রে ঘা, যকৃতে পচন প্রভৃতি রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। গরু এই আগাছা খেলে তার অন্ত্রে ঘা দেখা দেয়, দুধ উৎপাদন কমে যায়। ফসলী জমিতে পার্থেনিয়াম জন্মালে তা সেই ফসলের ফলন কমিয়ে দেয়। এর পুষ্পরেণু বেগুন, টমেটো, মরিচের মতো নানা ধরনের সবজির উৎপাদন ব্যাহত করে।

এটি মাটিতে নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণের প্রক্রিয়াও ব্যাহত করে। তাই এই উদ্ভিদ কোথাও জন্মাতে দেখামাত্রই নির্মূল করা উচিত। রাবির লির্নাকের মতো বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় এই উদ্ভিদ অপসারণের নানা অভিযান নিয়মিত পরিচালনার মাধ্যমে স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, কারণ অনেকেই এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অবগত নন।