ইসির শুনানির পঞ্চম দিন

রিটার্নিং অফিসারদের খারিজ করা প্রার্থিতা আপিলে বৈধ

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ করছেন বিভিন্ন প্রার্থী। তাদের অভিযোগ, মাঠ প্রশাসন বা রিটার্নিং অফিসাররা কারো দ্বারা প্রভাবিত এবং কোনো দলের স্বার্থে স্বতন্ত্র এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। তার উজ্জ্বল প্রমাণ নির্বাচন কমিশনের আপিলে এসে প্রায় বেশির ভাগই বৈধতা পাচ্ছে। আর গতকাল পঞ্চম দিনের শুনানিতে আরো ৭৩ জনের ভাগ্য খুলেছে। তারা এখন নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পেলেন। ফলে পাঁচ দিনে নির্বাচনী মাঠে নতুন করে ২৭৬ জনের প্রার্থিতা ফিরেছে বলে ইসির তথ্য থেকে জানা গছে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে গতকাল পঞ্চম দিনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে পুরো কমিশননের উপস্থিতিতে এই আপিলের শুনানি হয়। গতকাল আরো ১০০টি আপিল শুনানি হয়। আপিলকারী ও তাদের পক্ষে আইনজীবীরা বৈধতা পেতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এতে প্রার্থিতা ফিরে পান ৭৩ জন এবং আবেদন নামঞ্জুর হয় ১৭ জনের। আর অপেক্ষমাণ রাখা হয় ১০ জনের। আপিল নিষ্পত্তির প্রথম পাঁচ দিনে ৩৮০ জনের শুনানি করে কমিশন। এর মধ্যে মোট ২৭৬ জনের আপিল মঞ্জুর করে। আর আপিল খারিজ করেছে ৭৮ জনের বলে ইসি সচিব গতকাল সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।

ইসির এসব সিদ্ধান্তের ফলে আগে বাতিল হওয়া ৭৩ জন প্রার্থী আবার নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় ফিরেছেন। অন্য দিকে কয়েকজন আগে বৈধ থাকা প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপিল মঞ্জুর হওয়ায় তাদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। ইসি জানায়, গত পাঁচ দিনে মোট ৩৮০টি আপিল শুনানি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার আরো ১০০টি আপিল শুনানির কথা রয়েছে। ১৮ জানুয়ারির মধ্যে মোট ৬৪৫টি আপিল নিষ্পত্তি করার লক্ষ্য রয়েছে। গতকাল মনোনয়নপত্রের বৈধতা নিয়ে চারটি আপিলের শুনানি হয়। এর মধ্যে কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর মনোনয়নপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা আপিলটি ইসি খারিজ করেছে। ফলে তার প্রার্থিতা বহাল থাকছে।

আর দিনাজপুর-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থী এ কে এম কামরুজ্জামানের মনোনয়নপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা আরেকটি আপিল আগামী ১৭ জানুয়ারি নিষ্পত্তির জন্য মুলতবি রেখেছে ইসি। ওই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এ জেড এম রেজওয়ানুল হক কামরুজ্জামানের মনোনয়ন গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল করেন। তিনি দাবি করেন, কামরুজ্জামানের দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে। তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন- এমন কোনো প্রমাণ দাখিল করেননি। তবে কামরুজ্জামানের আইনজীবী ও সিনিয়র আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি প্রার্থী ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন এবং তা মনোনয়নপত্রের সাথে দাখিল করা হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে। এ কারণে তাকে নির্বাচন করতে বাধা দেয়ার কোনো সাংবিধানিক সুযোগ নেই।

এ ছাড়া কুমিল্লা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী সেলিম ভূঁইয়া একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মতিনের মনোনয়ন বৈধতার বিরুদ্ধে আপিল করেন। তবে ইসি সেই আপিল খারিজ করায় আবদুল মতিনের প্রার্থিতা বহাল থাকে। অন্য দিকে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী কে এম মণ্ডল একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শেফালী বেগমের বিরুদ্ধে করা আপিল মঞ্জুর করেছে ইসি। ফলে ওই আসনে শেফালী বেগমের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।

প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে লালমনিহাট-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শিহাব আহমেদ নয়া দিগন্তকে বলেন, রিটার্নিং অফিসার উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। এক শতাংশের যে বিধান আছে সেটিতে আমার ভোটারদের স্বাক্ষর ঠিক ছিল। দ্বৈবচয়নে যে তিনজনের ব্যাপারে আপত্তি করেন সেগুলোকে আপিলের সময় উপস্থিত করিয়েছিল। তাদের এফিডেভিটও দেয়া হয়েছে। ইসির আপিল আদালত আমাকে বৈধ ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, রিটার্নিং অফিসারদের ব্যাপারে ইসি যদি কঠোর না হন তাহলে মাঠপর্যায়ে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ থাকবে না। আমি তুরস্কের নাগরিক ছিলাম। বিদেশে ব্যবসা করি। বছরে তিন কোটি টাকা পাঠাই। আমি দেশের জন্য কাজ করতে বিদেশী নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছি। সব কাগজ জমা দিয়েছি। গোপালগঞ্জ-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রাথী সিরাজুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, আমার আপিল ইসি মঞ্জুর করেছে। মাঠপ্রশাসন অহেতুক স্বতন্ত্র প্রার্থীদের হয়রানি করছে। প্রশাসন নিরপেক্ষতা দেখাচ্ছে না। তা বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে। এটা ইসি বন্ধ না করলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। প্রার্থীরা মাঠে যার যার মতো কাজ করবে। প্রশাসন সবার কথা শুনবে; কিন্তু সেটি তারা করছেন না।