নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে স্ট্রাইকিং ফোর্স দিতে গড়িমসি

ক্ষুব্ধ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা

শামছুল ইসলাম
Printed Edition

সারা দেশে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে স্ট্রাইকিং ফোর্স দিতে গড়িমসি করার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সুপার (এসপি), বিজিবি এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বারবার স্ট্রাইকিং ফোর্স চাইলেও দিচ্ছেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন কর্মকাণ্ডের প্রতিকার চেয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবকে চিঠি দিয়েছেন কেউ কেউ। অথচ আরপিও অনুযায়ী, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের স্ট্রাইকিং ফোর্স না দিলে সেটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসদাচরণ মর্মে গণ্য হবে। ইসি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইসি সচিবকে লেখা চিঠিতে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইফতি হাসান ইমরান বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমতলী উপজেলায় নির্বাচনী অপরাধ বিচারের নিমিত্ত নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিযুক্ত হয়েছি। উক্ত নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে ভ্রাম্যমাণ কোর্ট পরিচালনায় পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য ও স্ট্রাইকিং ফোর্স চেয়ে ‘স্মারক ২৩৭, তারিখ ০৮/০২/২৬ মূলে নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্ট কমান্ডার, আমতলী ক্যাম্প’ বরাবর চিঠি দেয়া হলে তারা স্ট্রাইকিং ফোর্স দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

আমি তাদের অপারগতার কারণ লিখিতভাবে জানাতে বললে তারা জানাবেন বলে আর কোনো যোগাযোগ করেননি। এরপর ‘স্মারক ২৫০, তারিখ ০৯/০২/২৬ মূলে ইনচার্জ, আমতলী বিজিবি ক্যাম্প’ বরাবর চিঠি দেয়া হলেও স্ট্রাইকিং ফোর্স পাওয়া যায়নি। অন্য দিকে পুলিশ সুপার, বরগুনা বরাবর পুলিশ চেয়ে চিঠি দেয়া হলে মাত্র দুইজন পুলিশ আমাকে দেয়া হয়েছে এবং এর বেশি পারবেন না মর্মে অবগত করেছেন। এমতাবস্থায় মাত্র দুইজন পুলিশ সদস্য নিয়ে একটি ভ্রাম্যমাণ সামারি কোর্ট পরিচালনা ও উক্ত কোর্টের নিরাপত্তা বিধান করা অসম্ভব।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ৮৯এ(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এবং আপনার কার্যালয়ের সূত্রোক্ত স্মারকের নিয়োগপত্রের ৭নং দফা মতে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত যেকোনো ফোর্সের কমান্ডার বা ইনচার্জ, পুলিশ সুপার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই অনুচ্ছেদের অধীন নিয়োগকৃত ম্যাজিস্ট্রেটের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রদান করতে বাধ্য এবং প্রদান করতে ব্যর্থ হলে তার উক্ত কর্মকাণ্ড অদক্ষতা বা অসদাচরণের শামিল হতে পারে।

অতএব, উপর্যুক্ত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মহোদয়ের কাছে আকুল আবেদন এই যে, আমাকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রদানে অপারগতা প্রকাশকারীদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে মহোদয়ের সদয় মর্জি হয়।

গত মাসের ১৪ জানুয়ারি স্টাইকিং ফোর্স চেয়ে এখনো পাননি কিশোরগঞ্জের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো: কাউসার আলম। পুলিশ সুপারকে লেখা চিঠিতে তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি হিসেবে নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম ও নির্বাচনী অপরাধের অনুসন্ধান করার পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করার নিমিত্তে কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর) সংসদীয় আসন অধিক্ষেত্রে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ, ১৯৭২ এর ৯১এএ(৩) উল্লেখ করে তিনি বলেন, উক্ত নির্দেশনার অনুকূলে তার চাহিদা মোতাবেক ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা আবশ্যক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা একাধিক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জানান, দেশে গণতন্ত্র না থাকলে বিচার বিভাগ দুর্বল হয়ে যায়। এ জন্য জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের একটা অংশ যেকোনো ধরনের ভুয়া নির্বাচন প্রতিহত করতে চায়। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন আচরণে দেশের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা ক্ষুব্ধ। অথচ আরপিওতে আছে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের স্ট্রাইকিং ফোর্স না দিলে সেটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসদাচরণ মর্মে গণ্য হবে। সারা দেশেই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের স্ট্রাইকিং ফোর্স দিচ্ছে না। মানে অপরাধের বিচার করার যাদের ক্ষমতা তাদেরকে ডিসফাংশনাল করে রাখতেই এমনটি করা হচ্ছে।