খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়াতেও এগিয়ে যেতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

Printed Edition
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের   (বালক-বালিকা) ফাইনাল খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন : পিএমও
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের (বালক-বালিকা) ফাইনাল খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন : পিএমও

বাসস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়া, গান, বাজনা ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে পারদর্শী হয়ে শক্তিশালী দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু খেললে হবে না, লেখাপড়া ও সৃজনশীল কাজেও এগিয়ে যেতে হবে।

গতকাল বিকেলে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছোট্ট বন্ধুরা খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়া ও সাংস্কৃতিক কাজেও পারদর্শী হতে হবে। তবে অবশ্যই নানা ধরনের খেলা খেলতে হবে। এ বছর এই গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট মাধ্যমিক পর্যায়ে আয়োজন করার পরিকল্পনা আছে। পরের বছর প্রাইম মিনিস্টার কাপের আয়োজন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চান সবুজ মাঠে ফুটবল খেলতে কেমন লাগল। ‘কে কে খেলতে চাও’ এ প্রশ্নের জবাবে অনেক শিক্ষার্থী হাত তুললে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বছর ২২ লাখ বালক-বালিকা এ ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছে। তবে শুধু ফুটবল খেললে হবে না। ক্রিকেট খেলতে হবে, সাঁতার কাটতে হবে। তোমরা দেশের ভবিষ্যৎ। তাই তোমাদের সব কিছুতে এগিয়ে যেতে হবে, সব কিছুতে পারদর্শী হতে হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে দেশাত্মবোধক গানের সাথে বর্ণিল ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থী ও দর্শকরা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে সমগ্র স্টেডিয়াম ঘুরে ঘুরে শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন ও অভিনন্দন জানান। এরপর তিনি বেলুন উড়িয়ে টুর্নামেন্টের বালিকাদের চূড়ান্ত খেলার উদ্বোধন করেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম, আমরা বিজয়ী হলে দেশের খেলাধুলাকে এগিয়ে নেবো। সেই প্রতিশ্রুতি নিয়ে আমরা কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, শুধু ফুটবল বা ক্রিকেট নয়, সব ধরনের খেলা খেলে সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে তোমরা। আমরা যতটুকু পেরেছি, তোমরা এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি করবে। চূড়ান্ত খেলায় বালিকা বিভাগের ফাইনালে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ৪-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

অন্য দিকে বালক বিভাগের ফাইনালে ত্রিশালের দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সুনীল অর্থনীতির বিকাশে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণœ রেখে সমুদ্রসম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সামুদ্রিক সম্পদের সুরক্ষা, সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সুনীল অর্থনীতির বিকাশে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রমের আধুনিকায়ন, উন্নত প্রযুক্তির সংযোজন, তথ্যব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

আজ ‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে গতকাল প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক বাস্তবতায় সমুদ্র কেবল ভৌগোলিক সীমানার অংশ নয়; বরং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্যিক সংযোগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং জাতীয় কৌশলগত সক্ষমতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এই প্রেক্ষাপটে যথাযোগ্য গুরুত্ব ও পেশাদারিত্বের মধ্য দিয়ে ‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২৬’ উদ্যাপনের উদ্যোগ অবশ্যই ইতিবাচক।

আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থা (আইএইচডি) কর্তৃক এ বছরের প্রতিপাদ্য হিসেবে ‘সামুদ্রিক তথ্য আদান-প্রদানের ধারণায় আমূল পরিবর্তন’ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রাসঙ্গিক।

প্রধানমন্ত্রী ‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।