সিলেটে শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যামামলার রায়ে জাকিরের মৃত্যুদণ্ড

Printed Edition
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জাকির। নিহত ফাহিমা আক্তার (ডানে) : নয়া দিগন্ত
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জাকির। নিহত ফাহিমা আক্তার (ডানে) : নয়া দিগন্ত

সিলেট ব্যুরো

সিলেটের আলোচিত চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যামামলার প্রধান আসামি মো: জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে খালাস দেয়া হয়েছে। এ খালাসে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত শিশুটির পরিবার।

গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু উবায়দা হত্যাকাণ্ডের তিন মাসের মাথায় এ রায় দেন। মামলার ৩৩ দিনের মধ্যে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে। এতে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার দায়ে জাকির এবং লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে তার দুই ভাইকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বদরুর রহমান বাবর বলেন, মাত্র তিন মাসে এ মামলার নিষ্পত্তি দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়ার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। এতে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।

অন্য দিকে, দুই আসামি খালাস পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফাহিমার বাবা রাইসুল হক। তিনি বলেন, লাশ গুমে জড়িতদেরও শাস্তির আওতায় আনা উচিত ছিল। এ অংশের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে প্রতিবেশী জাকির হোসেন সিগারেট আনার কথা বলে ফাহিমাকে নিজের ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে শিশুটিকে গলা টিপে হত্যা করে জাকির। পরে দুই দিন লাশ একটি সুটকেসে রেখে পাশের ডোবায় ফেলে দেয়। গ্রেফতারের পর জাকির আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দী দেয়। ১ জুলাই বিচার শুরু হওয়ার পর এক মাসের বিচারিক কার্যক্রম শেষে বৃহস্পতিবার এ বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।