এরশাদ আলী খুলনা
খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। তবে প্রার্থী ঘোষণার দুই সপ্তাহ পার হলেও অধিকাংশ আসনেই দলীয় ঐক্য ও প্রচারণায় গতি আনতে পারেননি প্রার্থীরা। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ বিরোধ, ক্ষোভ-বিক্ষোভ এবং একাধিক পক্ষের টানাপড়েন প্রার্থীদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সবচেয়ে আলোচনায় খুলনা-২ আসন। দীর্ঘদিনের ‘রিজার্ভ’ আসন বিবেচিত এলাকাটিতে কে প্রার্থী হবেন তা নিয়ে ছিল দোলাচল। শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পেয়েছেন ব্যাটন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। দলীয় পদ থেকে অপসারণসহ অতীতের নানা টানাপড়েন এখনো তার রাজনীতিকে প্রভাবিত করছে। মনোনয়ন ঘোষণার পর নগর কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনা ও সাধারণ সম্পাদক তুহিনের সাথে বিরোধ মেটাতে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যস্থতায় বৈঠক হলেও থানা কমিটির নেতাদের একটি অংশ এখনো মঞ্জুর বিরোধিতায় অনড়। তবু তিনি প্রচার-সংযোগে সক্রিয় আছেন। তার পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে জনাব মঞ্জুকে ফোন করলে তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে তার অনুসারী শামসুজ্জামান জানান, তারা বসে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন।
মহানগরীর খালিশপুর দৌলতপুর নিয়ে গঠিত খুলনা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল। সেখানে প্রার্থিতা নিয়ে তেমন গুরুতর সমস্যা নেই। ফলে তিনি নির্বিঘেœ প্রচার কাজে মনোনিবেশ করতে পারছেন।
খুলনা-৪ আসন রূপসা, দিঘলিয়া ও তেরখাদা উপজেলা নিয়ে গঠিত। সেখানে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল দলীয় প্রার্থী। তিনি রূপসার মানুষ। এ আসনে তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতা তেরখাদার বাসিন্দা পারভেজ মল্লিক। দলীয় প্রার্থী ঘোষণার অব্যবহিত আগে এ দু’জনের সমর্থকরা একবার মারামারিতে জড়িয়েছিলেন। তার পর থেকে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে পরিস্থিতি কিছুটা থমথমে এখনো রয়েছে।
খুলনা-৫ ডুমুরিয়া-ফুলতলা আসনে ২০০১ সালের নির্বাচন থেকে বিএনপি কাউকে প্রার্থী করেনি। এবার এ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে আলী আসগর লবিকে। মাস ছয়েক আগে থেকে তিনি এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন। তাকে দলের ভেতরের তেমন কোন বিদ্রোহ বা বিরোধের মুখে পড়তে হয়নি। তবে সম্প্রতি ছাত্রদলের সাবেক নেতা পরিচয়ধারী শফি মোহাম্মদ খান ফুলতলায় কিছু লোক নিয়ে সভা করেন। সেখানে তিনি টাকার বিনিময়ে আলী আসগর লবি মনোনয়ন কিনেছেন বলে অভিযোগ করেন।
খুলনা-৬ পাইকগাছা-কয়রা আসনে প্রার্থী করা হয়েছে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পীকে। এলাকার দলীয় কর্মী সমর্থকরা আশা করেছিলেন দুই উপজেলার বাসিন্দা কাউকে, বিশেষ করে কয়রার বাসিন্দা জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোমরেজুল ইসলাম প্রার্থী হবেন। কিন্তু রূপসার বাসিন্দা বাপ্পীকে প্রার্থী করার দলীয় সিদ্ধান্তে তারা হতাশ হলেও কোনো ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। জনাব বাপ্পীও সেখানে ব্যাপক মিটিং সিটিং করে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের দুঃখকষ্ট মোচন এবং ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।
খুলনা-১ আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা না হওয়ায় জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আমির এজাজ খান এবং পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা ছাত্রদলের সাবেক নেতা জিয়াউর রহমান পাপলু সেখানে সক্রিয় রয়েছেন। তারা নিজেদের অপরিহার্যতা প্রমাণের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কার ভাগ্যে শিখা ছিঁড়বে, নাকি জোট সঙ্গী কাউকে আসনটি দেয়া হবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে। বিএনপি সূত্রগুলোতে একান্তে আলাপ করে জানা গেছে, শুধু খুলনা-২ বাদে সবগুলোতে ক্ষোভ-বিক্ষোভ থাকলেও সেগুলো চাপা আছে। খুলনা-৫ এ সমস্যা প্রকাশ্য। এখন অন্তঃকোন্দল মিটিয়ে সবাইকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে একাট্টা করে মাঠে নামাটা এখনো চ্যালেঞ্জিং রয়ে গেছে। তবে সময়ে সব ঠিক হয়ে যাবে- এমনটিই আশা করছেন কর্মী সমর্থকরা।



