নয়া দিগন্ত ডেস্ক
দাম্পত্তকলহসহ বিভিন্ন ঘটনায় ছয় জেলায় ছয় গৃহবধূ খুন হয়েছেন। এ ছাড়া মিরসরাইয়ে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কক্সবাজারে ২০১৪ সালে এক অস্ট্রেলিয়ান নারী পর্যটককে ধর্ষণ চেষ্টা মামলার রায়ে ৩ জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
ফুুলবাড়ী (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানান, দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে স্বামীর শাবলের আঘাতে স্ত্রী কুলসুম আক্তার মিমি (৩০) নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোর পৌনে ৪টার দিকে পৌর শহরের স্বজনপুকুর বুন্দিপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় স্বামী মানিক হোসেন (৩৫) কে আটক করেছে পুলিশ। নিহত কুলসুম আক্তার মিমি, ওই এলাকার মৃত আব্দুল কাশেমের মেয়ে। স্বামী মানিক হোসেন, পূর্ব গৌরীপাড়া গ্রামের আ: মতিনের ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত মোছা: কুলসুম আক্তার মিমির বাবার বাড়িতে তার স্বামী মানিক হোসেন বিয়ের পর থেকেই ঘর জামাই থাকেন। সংসারজীবনে তাদের তিনটি ছেলে সন্তান রয়েছে। মানিক কোনো কাজকর্ম না করায় সংসার জীবনে প্রায় তার স্ত্রীর সাথে ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকত।
মঙ্গলবার রাতে কুলসুম আক্তার মিমি ও স্বামী মানিক হোসেনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক চলে। এরই একপর্যায়ে মানিক ভোর পৌনে ৪টার দিকে ঘরে থাকা লোহার শাবল দিয়ে মিমির মাথায় আঘাত করে। এতে তৎক্ষণাৎ কুলসুম আক্তার মিমি মৃত্যুবরণ করেন। এ সময় সন্তানদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ঘাতক মানিক হোসেনকে আটক করে বেঁধে রাখে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধারসহ স্বামী মানিককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, স্বামীর হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছে স্ত্রী। পারিবারিক কলহের জের ধরে পাষণ্ড স্বামী স্ত্রীকে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে শ্বশুর বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে, গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের ধানকোড়া গ্রামে।
কাশিয়ানী থানা পুলিশ সুরতহাল শেষে লাশ উদ্ধার করে মঙ্গলবার সকালে পোস্টমর্টেমের জন্য গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠায়।
জানা গেছে, উপজেলার ধানকোড়া গ্রামের মো: মিজানুর রহমানের মেয়ে মোসাঃ বর্ণা খানমকে ১২ বছর আগে ফরিদপুর সদর থানার বঙ্গনন্দপুর এলাকার মো: নূর ইসলাম বেপারীর ছেলে মো: আল আমিন বেপারির সাথে বিবাহ দেয়। আল আমিন বেপারি স্ত্রী ও তাদের তিন শিশু কন্যাকে নিয়ে শ্বশুর বাড়ি বেড়াতে আসে। সোমবার বাড়ির পাশে পুকুরে গোসল করতে গিয়ে মো: আল আমিন (৩৫) নিজের স্ত্রী বর্ণা খান (৩০) কে পুকুরে ডুবাইয়া নির্মমভাবে মেরে ফেলে দিয়ে শ্বশুর বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
কাশিয়ানী থানার এস আই মো: বোরহান দর্জি অভিযান চালিয়ে ফরিদপুর জেলা সদর থেকে হত্যাকারী ঘাতক স্বামী আল আমিনকে গ্রেফতার করে।
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরির পরিত্যক্ত গার্ডরুম থেকে আমিনুল ইসলাম (৩৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের পূর্ব খৈয়াছড়া মির্জাপাড়া এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত বিস্কুট কারখানার গার্ডরুমে অর্ধবসা অবস্থায় লাশটি দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তারা বিষয়টি মিরসরাই থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
আমিনুল ইসলাম চট্টগ্রাম শহরের বিশ্বকলোনী এলাকার সাহেব আলীর ছেলে। স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিস্কুট কারখানাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে ওই কারখানার পাহারাদার গার্ডরুমের ভেতরে উঁকি দিয়ে একজনকে অস্বাভাবিকভাবে বসে থাকতে দেখে কাছে গিয়ে বুঝতে পারেন তিনি মৃত। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হয়।
সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ ইউনিয়নে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। মঙ্গলবার সকালে হরগজ বেপারী পাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত সুফিয়া খাতুনের (৫০) সুরতহালে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ায় তার স্বামী মো: ইসমাইল হোসেনকে (৫৫) আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কলহই এই ঘটনার পেছনে মূল কারণ হতে পারে। সকালে মৃত্যুর খবর ছড়ালে সাটুরিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।
এ দিকে এই মৃত্যুকে ‘পরিকল্পিত খুন’ বলে দাবি করছেন নিহতের ভাই রমজান আলী। তার স্পষ্ট অভিযোগ, সুফিয়াকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। অন্য দিকে, নিহতের ছেলে ইসরাফিল দাবি করেছেন, তার মা মানসিক রোগী ছিলেন এবং তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন জানান, লাশের হাত ও পেটে আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। প্রকৃত কারণ উদঘাটনে লাশ মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টের পরই মূল রহস্য উন্মোচিত হবে এবং আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মধুপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলের মধুপুরে এক অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার করেছে মধুপুর থানা পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে পরিচয়বিহীন এই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে মধুপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের গোলাবাড়ী ইউনিয়নের নেকীবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অজ্ঞাত একটি গাড়ির চাপায় ওই নারী নিহত হন। এলাকাবাসী সকালে লাশটি দেখতে পেয়ে মধুপুর থানা পুলিশকে খবর দিলে তারা গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।
মধুপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। নিহত নারী মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী রেলক্রসিংসংলগ্ন রেললাইন থেকে ফাতেমা (২০) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ফাতেমা চুমুরদী ইউনিয়নের দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে। প্রায় এক বছর আগে গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার আলিপুর কোহালদিয়া গ্রামের ইসরাফিল শিকদারের ছেলে সাইফুল শিকদারের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা ভাঙ্গার কাপুড়িয়া সদরদী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। জানা গেছে, ফাতেমার স্বামী প্রবাসে থাকলেও প্রায় এক মাস আগে দেশে ফিরেছেন।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশ ও ভাঙ্গা থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাজনগর (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, মৌলভীবাজারের রাজনগরে প্রায় ৮ ফুট মাটির নিচ থেকে জায়দা বেগম (৩৮) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা বাগান এলাকায় স্বামী আলমগীর আলীর বাড়ির উঠানের পাশে গর্ত থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এ লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুন থেকে জায়দা বেগমের (৩৮) কোনো খোঁজ মিলছিল না। প্রতিবেশী লোকজনসহ জায়দার বাবা তাকে খুঁজতে গেলে জায়দার স্বামী আলমগীর আলী তাদের জানায়, জায়দা বেগম বিদেশ চলে গেছে। জায়দার বাবা পাশর্^বর্তী সোনাটিকি গ্রামের আব্দুল হান্নান তাকে না পেয়ে গত ৩ জুলাই তার মেয়ে নিখোঁজ হয়েছে মর্মে রাজনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এর আলোকে রাজনগর থানা পুলিশ জায়দার স্বামী আলমগীর আলীকে থানায় এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে সে তার স্ত্রী জায়দা বেগমকে হত্যা করে বাড়ির উঠানের পাশে মাটির নিচে লাশ পুঁতে রেখেছে বলে স্বীকারোক্তি দেয়। তার দেয়া তথ্য মতে জেলা পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিপুল সিকদারের উপস্থিতিতে ৬ জুলাই সোমবার স্বামী আলমগীরের বাড়ির উঠানের পাশে প্রায় ৮ ফুট মাটির গর্ত থেকে জায়দা বেগমের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জায়দার স্বামী আলমগীর আলী (৪০), জালাল আহমদ, আমিনুল ইসলাম ও নুরুল মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জায়দা ও আলমগীরে ঘরে ৬ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের বলড়া ইউনিয়নে কোল্ড ড্রিংসের সাথে চেতনা নাশক পান করিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগের মামলায় প্রধান আসামি জিহাদ (২০) এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। গত (১ জুলাই) বুধবার হরিরামপুর থানায় ধর্ষণ মামলা হলে ৩ নং আসামি মিনু আরা ওরফে আশা নামের এক গৃহবধূকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে মামলা রুজুর এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো প্রধান আসামি জিহাদকে (২০) আটক করতে পারেনি পুলিশ।
এর আগে গত ২৫ জুন রাত সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার বলড়া ইউনিয়নের বলড়া গ্রামে এক কিশোরীকে (১৫) ধর্ষণের অভিযোগ উঠে প্রতিবেশী জিহাদের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে জিহাদ পলাতক রয়েছে।
এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা ১ জুলাই বুধবার হরিরামপুর থানায় জিহাদসহ চারজনের নামে মামলা করেন।
কক্সবাজার অফিস জানায়, কক্সবাজার বেড়াতে আসা এক বিদেশী নারী পর্যটককে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় তিনজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক ( জেলা ও দায়রা জজ) রোকেয়া আক্তার এ রায় দেন।
দণ্ডিতরা হলো রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পেঁচার দ্বীপ এলাকার বাসিন্দা কলিম উল্লাহর ছেলে মো: আনছারুল্লাহ (২৯), আবদুল মোনাফের ছেলে আবদুল গফুর (২৬) ও এজাহার মিয়ার ছেলে বেলাল উদ্দিন (৩৬)। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় কটেজ মালিক কাইয়ুমুল হক চৌধুরীকে খালাস দেয়া হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশে বেড়াতে আসেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ওই নারী পর্যটক। তিনি ১৪ ডিসেম্বর কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের পেঁচার দ্বীপসংলগ্ন একটি কটেজে ওঠেন। দুই দিন পর গভীর রাতে দণ্ডিত আসামিরা তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় ধস্তাধস্তিতে ওই নারী আহত হন। পরে কটেজ থেকে বের হয়ে তিনি চিৎকার করলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় রামুর হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন উপপরিদর্শক স্বরূপ কান্তি দাশ বাদি হয়ে রামু থানায় মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে আনছারুল্লাহ ও আবদুল গফুরকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা ঘটনার সাথে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ শামীম জামান, মামলায় ছয়জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ আদালত রায় দেন। এ সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।



