প্রিন্স আশরাফ
একশ’ বিয়াল্লিশ.
মাঝি ইতস্তত করে বলল, ‘দরকার কী সাব?’
‘দরকার না হলে বলতাম না। আমরা যে কাজে এসেছি হয়তো সেই দরকার।’ নাভিদ কাঠ কাঠ গলায় বলল।
মাঝি মুনি ঋষিদের ভস্ম করা দৃষ্টিতে ছেলের দিকে তাকাল। ও না দেখালে তো এই ঝামেলায় যেতে হতো না।
নৌকা ঘুরিয়ে খালের মধ্যে ঢোকানো হলো। নিঃশব্দে নৌকার কাছাকাছি যেতে চাইলেও দাঁড়ের শব্দ, পানির ছপ ছপ শব্দ আর আরেকটা নৌকা আসায় শান্তি ভঙ্গ হওয়ায় শান্তিপ্রিয় পাখিদের গাছ থেকে ওড়ার শব্দে চারিদিক মুখরিত হয়ে উঠল।
তারা লতায় পাতায় ঢাকা নৌকার আরেকটু কাছাকাছি আসতেই সুতীক্ষ্ম মেয়েলি হুমকি চারদিক কাঁপিয়ে দিলো। ‘দাঁড়াও ওখেনে। আর এট্টুও এগুইও না।’
মাঝি দাঁড় বাওয়া বন্ধ করে দিলো। বন জঙ্গলের ভিতর যাওয়া আসার জন্য এদের চোখ গোয়েন্দার চোখের চেয়েও তীক্ষ্ম। হাকিম মাঝি নৌকা থামিয়ে ফিসফিস করে বলল, ‘দেখিছেন কী অবস্থা?’
কী অবস্থা তখন দেখা গেল। মাঝিও মুখে ফিসফিস করে বলল, ‘বেটি ছাওয়াল বন্দুক ধরি রেখিছে।’
নাভিদও ওই নৌকার দিকে পিস্তল তাক করে ধরল। তার দেখাদেখি তার একটু পিছনে দাঁড়িয়ে জুয়েল পিস্তল ওই নৌকার দিকে তাক করে ধরল। (চলবে)



