- রাজনীতিবিদ জওহর বিন মুবারক ৯ দিন ধরে কারাগারে অনশন করছেন
- আন নাহদা পার্টির নেতা রাশিদ ঘানুশিও অনশন আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন
আলজাজিরা
তিউনিসিয়ার রাজনৈতিক বিরোধী দলের বিশিষ্ট সদস্যরা কারাবন্দী রাজনীতিবিদ জওহর বিন মুবারকের সাথে সংহতি প্রকাশ করে একটি সম্মিলিত অনশন ধর্মঘটে যোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিউনিসিয়ার প্রধান বিরোধী জোট ন্যাশনাল স্যালভেশন ফ্রন্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জাওহার বিন মুবারক ফেব্রুয়ারি ২০২৩ থেকে চলমান বন্দিত্বের প্রতিবাদে গত সপ্তাহে কারাগারে নিজেই অনশন শুরু করেন। ৯ দিন ধরে খাদ্য গ্রহণ না করায় তার শারীরিক অবস্থা গুরুতরভাবে অবনতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার পরিবার ও সমর্থকরা।
রাজধানী তিউনিসে এক সংবাদ সম্মেলনে বিন মুবারকের বাবা, প্রবীণ অধিকারকর্মী এজেদ্দিন হাজগুই বলেন, ‘আমার ছেলে অত্যন্ত উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। তার স্বাস্থ্য দ্রুত অবনতি হচ্ছে।’ তিনি জানান, তার পরিবারও সংহতি জানিয়ে অনশন শুরু করবে। প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে ক্ষমা করব না।’
বিরোধী দলগুলোর নেতারা গত শুক্রবার ঘোষণা দেন, তারা বিন মুবারকের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে অনশন ধর্মঘটে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছেন মধ্যপন্থী আল জুমহুরি পার্টির নেতা ইসাম চেব্বি, যিনি একই মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাবন্দী। দলের অন্য নেতা উইসাম সঘাইয়ের জানিয়েছেন, আরো সদস্যরা এই আন্দোলনে যোগ দেবেন।
আন নাহদা পার্টির ৮৪ বছর বয়সী নেতা রাশিদ ঘানুশিও অনশন আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। তিনি জুলাইয়ে ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র’ ও অর্থপাচারের কথিত অভিযোগে ২০ বছরের বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তিনি বরাবরই নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার ফেসবুক পেজে বলা হয়েছে, এই অনশন শুধু বিন মুবারকের প্রতি সংহতি নয়, বরং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নাগরিক স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান।
বিন মুবারককে এপ্রিল মাসে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয় ‘রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র’ ও ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য’ হওয়ার অভিযোগে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে নিন্দা করেছে। ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট সাঈদের ক্ষমতায় আসার পর থেকে তিউনিসিয়ায় নাগরিক স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার ক্রমেই সঙ্কুচিত হয়েছে। ২০২১ সালে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাহী ক্ষমতা এককভাবে গ্রহণ করেন তিনি, যা ২০২২ সালের বিতর্কিত গণভোটে নতুন সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়।
তিউনিসিয়ান লিগ ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, বিন মুবারককে অনশন বন্ধে বহুবার অনুরোধ করা হলেও তিনি বলেছেন, ‘অন্যায় দূর না হওয়া পর্যন্ত আমি অনশন চালিয়ে যাবো।’ মানবাধিকার সংগঠনগুলো কারা কর্তৃপক্ষের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও বন্দীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে। এই আন্দোলন তিউনিসিয়ার বিচারব্যবস্থা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন নিয়ে গভীর সঙ্কটের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।



