সাভার (ঢাকা)সংবাদদাতা
মৎস্য ও প্রাণিস¤পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন- মহিষের দই বাংলাদেশের জিআই পণ্য হিসেবে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে। মহিষ দেশের স¤পদ, কিন্তু দীর্ঘদিন অবহেলিত থেকেছে- এ অবহেলা যেন আর না হয়, সরকারের পক্ষ থেকে সে বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, মহিষের দুধ থেকে শুধু দই নয়, চিজসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের প্রশিক্ষণ দেয়া হলে খামারিদের আয়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। এসব পণ্য রফতানিযোগ্য হিসেবেও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
উপদেষ্টা গতকাল বুধবার বাংলাদেশ বাফেলো অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রফেসর ড. মো: ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে সাভারে মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারে বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ সব কথা বলেন। উপদেষ্টা বলেন, কৃষি ও প্রাণিস¤পদ মিলিয়েই খাদ্য উৎপাদন গড়ে ওঠে। কিন্তু অনেকেই খাদ্য উৎপাদন বলতে কেবল কৃষিকেই বোঝেন। কৃষিতে কীটনাশক ও আগাছা নাশকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় গরু, ছাগল, মহিষ ঘাস খেতে পারছে না। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির নামে মহিষের চারণভূমি কমছে, যা মোটেও কাম্য নয়। তিনি এ সময় কীটনাশক ব্যবহারে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং খাদ্য উৎপাদনে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, গবাদিপশুর তালিকায় মহিষকে যথাযথভাবে স্থান দেয়া হয়নি। প্রাণিস¤পদ খাতে মহিষের গুরুত্ব এখনো অবমূল্যায়িত। দেশে মহিষের সংখ্যা কমে যাওয়া উদ্বেগজনক। চারণভূমির অভাব মহিষ পালনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্মেলনে গেস্ট অব অনার ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো: রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিস¤পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নীলুফা আক্তার, প্রাণিস¤পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো: আবু সুফিয়ান, বাংলাদেশ প্রাণিস¤পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক।
সম্মেলনে ড. প্রীতিশ ভারতের হরিয়ানায় প্রান্তিক কৃষকের দৃষ্টিকোণ থেকে মুরাহ মহিষ ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ ছাড়া, ড. হিরণ¥য় বিশ্বাস ইতালির দুধ উৎপাদন ব্যবস্থাপনা এবং বাংলাদেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে টেকসই মহিষ দুধ উৎপাদনের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ড. গৌতম কুমার দেব। পরে মৎস্য ও প্রাণিস¤পদ উপদেষ্টা সাভারে অবস্থিত কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামার চত্বরে নবনির্মিত কেন্দ্রীয় কৃত্রিম প্রজনন ল্যাবরেটরির উদ্বোধন করেন। এ সময় প্রাণিস¤পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো: আবু সুফিয়ান, কেন্দ্রীয় কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের পরিচালক মো: শাহজামান খান, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো: গোলাম আযমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



