হারুন অর রশিদ গলাচিপা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর গলাচিপায় অসময়ে মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মাছের ঘেরের পাড় ও পতিত জমিতে সবজি চাষের পাশাপাশি কৃষকরা এ পদ্ধতিতে তরমুজ আবাদ করছেন। অসময়ে তরমুজের ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় দিন দিন এ চাষে আগ্রহ বাড়ছে তাদের।
চর কাজল ইউনিয়নের ছোট চরকাজল গ্রামের পলাশ মোল্লা চরবিশ্বাস ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৪৮ শতাংশ জমিতে মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করেছেন। সরেজমিন দেখা যায়, স্ত্রী তহমিনা বেগমকে সাথে নিয়ে তিনি ক্ষেতের পরিচর্যা করছেন। ক্ষেতের অধিকাংশ তরমুজ ইতোমধ্যে পরিপক্ব হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে।
কৃষক পলাশ মোল্লা জানান, স্থানীয় ডিলার শহীদ মিয়ার পরামর্শে আলমগীর সিডের ‘ম্যাজিক গ্রেট’ জাতের তরমুজের বীজ সংগ্রহ করে চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার ক্ষেতে প্রায় এক হাজার ৪৫০টি তরমুজ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০০টির ওজন ১০ কেজি করে। অন্যগুলোর ওজন পাঁচ থেকে ছয় কেজি হবে বলে জানান তিনি।
পলাশ মোল্লা বলেন, এ পর্যন্ত তরমুজ চাষে তার প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। দুই-তিন দিনের মধ্যে তরমুজগুলো বাজারজাত করার আশা করছেন। ঢাকার ওয়াইজঘাটে নিয়ে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। ভালো দাম পেলে এ চাষ থেকে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি। চলতি আবাদ শেষ করে একই পদ্ধতিতে আবারো তরমুজ চাষ করবেন বলে জানান পলাশ।
গলাচিপা উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: রাসেল বলেন, অসময়ে তরমুজ চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সাধারণ মৌসুমের তুলনায় এ সময়ে বাজারে তরমুজের চাহিদা ও দাম তুলনামূলক ভালো থাকে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আরজু আক্তার বলেন, অসময়ের তরমুজ চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরামর্শ, আধুনিক চাষপদ্ধতি ও পরিচর্যার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় যাতে কৃষকরা কাক্সিক্ষত ফলন পান, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করছেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সম্ভাবনাময় ও উদ্ভাবনী কৃষি কার্যক্রমে কৃষি বিভাগ কৃষকদের পাশে থাকবে।



