ঝালকাঠিতে জমজমাট ভাসমান আমড়ার হাট

Printed Edition
ঝালকাঠিতে জমজমাট ভাসমান আমড়ার হাট
ঝালকাঠিতে জমজমাট ভাসমান আমড়ার হাট

আতিকুর রহমান ঝালকাঠি

ঝালকাঠিতে এখন আমড়ার জমজমাট মৌসুম। সুস্বাদু ও পুষ্টিকর এই ফলের সুবাসে মুখরিত ভিমরুলীর বিখ্যাত ভাসমান হাট। খালের ওপর সারিবদ্ধ নৌকায় তাজা আমড়ার সবুজ রূপ আর বেচাকেনার ব্যস্ততা এক নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা করেছে। জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, অন্য ফসলের তুলনায় কম খরচ ও বেশি লাভ হওয়ায় ঝালকাঠিতে দিন দিন আমড়ার চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে জেলার চার উপজেলায় মোট ৬০৫ হেক্টর জমিতে আমড়ার আবাদ হয়েছে। এসব জমি থেকে উৎপাদন এসেছে চার হাজার ৫৯০ মেট্রিক টন, যার বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬০২ হেক্টর জমিতে চার হাজার ৭০ মেট্রিক টন আমড়া উৎপাদিত হয়েছিল। অর্থাৎ মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে আমড়ার আবাদ জমি তিন হেক্টর এবং মোট উৎপাদন ৫২০ মেট্রিক টন বেড়েছে।

সুস্বাদু এই ফলের দেশজুড়ে রয়েছে বিপুল চাহিদা। আর জাতীয় চাহিদার একটি বড় অংশই পূরণ হয় ঝালকাঠি থেকে। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন স্থানীয় হাটে আমড়া বেচাকেনা হলেও ভিমরুলী গ্রামের ভাসমান হাটটিই সবচেয়ে বড় ও প্রাণবন্ত কেন্দ্র। এখান থেকেই পাইকাররা তাজা আমড়া সংগ্রহ করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করে থাকেন।

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি থেকে আসা পাইকার নোমান বলেন, এখান থেকে আমড়া কিনে আমরা ঢাকায় পাঠাই। সব খরচ সামলে প্রতি মণে প্রায় ১০০ টাকা পর্যন্ত নিট লাভ থাকে।

সুজন হালদার শানু জানান, এবার তার জমিতে বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে চার হাজার টাকার আমড়া নামবে এবং মৌসুম শেষে তিনি অন্তত ছয় লাখ টাকা উপার্জনের আশা করছেন। কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের প্রবীণ কৃষক ও সাবেক চেয়ারম্যান ভবেন্দ্রনাথ হালদার পেয়ারা চাষের চেয়ে আমড়ার সুবিধার কথা তুলে ধরে জানান, অনাবৃষ্টি ও এনথ্রাক্স রোগের কারণে পেয়ারায় লোকসান বাড়ছে। প্রতিদিন শ্রমিক দিয়ে পেয়ারা তোলার খরচ পেয়ারার বিক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি হয়ে যায়। কিন্তু আমড়ায় এই ঝামেলা নেই।

ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের রোগবালাই ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। উৎপাদন খরচ কম এবং নিশ্চিত বাজার থাকায় এই অঞ্চলে আমড়া চাষে শিক্ষিত বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।