দ্য স্ট্রেইটস টাইমস
ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সার্বিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা অভূতপূর্ব অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পর্তুগাল ও স্পেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাণ্ডব চালানো ভয়াবহ দাবানল, ২০২৪ সালে স্পেনের প্রলয়ঙ্করী প্লাবন এবং এর আগে জার্মানির জলবায়ুজনিত ধ্বংসযজ্ঞ প্রমাণ করেছে যে, চরম আবহাওয়া আর কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। সামাজিক নিরাপত্তা খাতের ব্যয় বৃদ্ধি ও সামরিক বাজেট বাড়ানোর কারণে ইতোমধ্যেই অর্থনৈতিক চাপে থাকা মহাদেশটির জন্য এই প্রাকৃতিক বিনাশ এখন বাজেটের ওপর স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক বোঝায় রূপ নিয়েছে।
১৯৮০ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে তৈরি একটি রিপোর্টে জানা গেছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের দরুন ইইউভুক্ত দেশগুলো সামগ্রিকভাবে প্রায় ৮২২ বিলিয়ন ইউরোর ক্ষতির মুখে পড়েছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই বিশাল আর্থিক ক্ষতির চারভাগের এক ভাগই ঘটেছে স্রেফ শেষ চার বছরে। ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ফিচের প্রতিনিধি ফেদেরিকো বাররিগা-সালাজার জানান, প্রাকৃতিক ক্ষয়ক্ষতিকে একসময় সাময়িক বাজেট ঘাটতি মনে করা হলেও বর্তমানে তা নিয়মিত সরকারি খরচের তালিকায় চলে এসেছে। এর ফলে স্পেনের মতো দেশকে শতাব্দীর ভয়াবহতম বন্যার ধাক্কা কাটাতে গিয়ে চলতি বছর পর্যন্ত তাদের মোট জিডিপির শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ পুনর্নির্মাণ কাজে খরচ করতে হচ্ছে। ক্ষতির মাত্রা কয়েক গুণ বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ পর্যাপ্ত বীমা সুরক্ষার অভাব। জোটের মোট জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতির মাত্র ২৫ শতাংশ বীমা ব্যবস্থার অধীনে রয়েছে, যা কিছু দেশে পাঁচ শতাংশের নিচে। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ফ্রাঙ্কলিন টেম্পলটনের ইউরোপীয় ফিক্সড ইনকাম প্রধান ডেভিড জাহ্ন সতর্ক করেছেন যে, দ্রুত উত্তপ্ত হতে থাকা এই মহাদেশে ঝুঁকি বাড়ায় বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো সুরক্ষা দিতে অনীহা দেখাবে। এতে আমজনতার ওপর সরাসরি আর্থিক চাপ তৈরি হবে এবং তা জিডিপির ১ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। যেমন- বেলজিয়ামের অধিকাংশ ক্ষতি বীমা মেটালেও জার্মানিকে সরাসরি সরকারি খাতা থেকে ৩০ বিলিয়ন ইউরো অনুদান দিতে হয়েছিল।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় গ্রিস তাদের পর্যটন কেন্দ্রগুলোর জল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা টেকসই করার উদ্যোগ নিয়েছে এবং পর্তুগাল নতুন গৃহমালিকদের জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ বীমা বাধ্যবাধকতার কথা ভাবছে।



