নির্বাচন নিয়ে ভারতের মন্তব্য অগ্রহণযোগ্য : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

Printed Edition
নির্বাচন নিয়ে ভারতের মন্তব্য অগ্রহণযোগ্য : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
নির্বাচন নিয়ে ভারতের মন্তব্য অগ্রহণযোগ্য : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

বাংলাদেশ অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিয়ে ভারতের মন্তব্য ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশে নির্বাচন কেমন হবে, সেটি নিয়ে আমাদের প্রতিবেশীদের উপদেশ চাই না। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে হওয়া প্রহসনমূলক নির্বাচনগুলো নিয়ে ভারত একটি শব্দও উচ্চারণ করেনি। সেই ভারতের নসিয়ত আমাদের দরকার আছে বলে মনে করি না।

গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। উপদেষ্টা বলেন, ভারতের কিছু বক্তব্য এসেছে- সেখানে আমাদের যে নসিয়ত করা হয়েছে, সেটি আমাদের দরকার আছে বলে মনে করি না। বাংলাদেশে নির্বাচন কেমন হবে- সেটি নিয়ে আমাদের প্রতিবেশীদের উপদেশ চাই না। অন্তর্বর্তী সরকার প্রথম দিন থেকেই স্পষ্টভাবে বলে আসছে, সর্বাধিকসংখ্যক মানুষ যেন ভোট দিতে পারে সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই, যে পরিবেশ গত ১৫ বছর ছিল না। এখন ভারত আমাদের এটা নিয়ে উপদেশ দিচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ ‘অগ্রহণযোগ্য’। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের আগে যে সরকার বাংলাদেশে ছিল, তাদের সাথে ভারতের অত্যন্ত মধুর সম্পর্ক ছিল। সেই সরকারের সময় নির্বাচনগুলো প্রহসনমূলক হয়েছে। তখন ভারত একটি শব্দও উচ্চারণ করেনি। এখন সামনে একটা ভালো নির্বাচনের দিকে আমরা যাচ্ছি। আমরা জানি, আমরা কি করব। আমরা একটা ভালো নির্বাচন করব, মানুষ ভোট দিতে পারবে এবং যাদের ভোট দেবে তারাই নির্বাচিত হবে।

দুই দেশের দূতদের তলব-পাল্টা তলব নিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, আমরা তাদের হাইকমিশনারকে ডেকেছি। আমরা যা কিছু বলেছি, তা থেকে তারা কিছু গ্রহণ করেনি। সে বিষয়ে তাদের দ্বিমত আছে। একইভাবে ভারত আমাদের হাইকমিশনারকেও ডেকেছে। এটা খুব অপ্রত্যাশিত না। সাধারণত এটা ঘটে। তিনি বলেন, আগে শেখ হাসিনা ভারতে বসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দিতেন। এখন প্রতিনিয়ত মূল ধারার গণমাধ্যমেও তার বক্তব্য আসছে। সেই বক্তব্যে প্রচুর উসকানিও রয়েছে। শেখ হাসিনা একটা আদালত থেকে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন, অথচ তিনি পাশের দেশে বসে বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। সেই ক্ষেত্রে আমরা হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য বন্ধ করার পদক্ষেপ বা তাকে ফেরত চাইব- এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভারত যদি শেখ হাসিনাকে থামাতে না চায়, আমরা থামাতে পারব না। এটা আমাদের বুঝে নিতে হবে। আমরা চাইব যে ভারত তাকে থামাক, যাতে এখানে নির্বাচনের জন্য একটা পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যে বাংলাদেশে নির্বাচনী পরিবেশ যাতে খারাপ না হয়- এটা আমরা ভারতের কাছে চাইব। ভারত যদি সেটা করে, তাহলে সেটাকে আমরা ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করব।

ভারত সবসময়ই মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করার চেষ্টা করে : সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ভারত সবসময়ই মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের ভূমিকাকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করে। মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানকে যারা অস্বীকার করে, সামরিক ইতিহাস বা সামরিক বিজ্ঞান সম্পর্কে তাদের কোনো জ্ঞান নেই। মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা ছাড়া পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত বিজয় অর্জন করতে পারত না।

প্রসঙ্গত, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যে পোস্ট দিয়েছেন, তাতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উল্লেখ করেননি। তিনি এটিকে ভারতের ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। গত বছরও এই দিনে নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া পোস্টে ১৬ ডিসেম্বরকে ভারতের বিজয় বলে দাবি করেছিলেন।

এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরো বলেন, বাংলাদেশের বিজয় দিবসকে কলকাতায় ইস্টার্ন কমান্ড দিবস হিসেবে পালন করা হয়। কারণ তারা মনে করে, ভারতীয় সেনাবাহিনী যুদ্ধ করে এ বিজয় অর্জন করেছে। ৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত বিজয় অর্জন করেছিল- এটা সত্য। কিন্তু ভারতীয় বিশেষজ্ঞরাই বলেছেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রতিরোধকে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধরা দুর্বল করে ফেলেছিল। সেটা না করলে ভারতের এই বিজয়ের জন্য অনেক সময় লাগত। অনেক বেশি রক্তক্ষয় হতো, আরো অনেক মানুষ মারা যেত।

তৌহিদ হোসেন বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম দিকে একটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তারা পুরোপুরি সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। ৭১ সালের জুন থেকে মুক্তিযোদ্ধারা পুরোপুরি যুদ্ধ শুরু করেছিল।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশে আসার জন্য লন্ডন মিশন থেকে ট্র্যাভেল পাস সংগ্রহ করেছেন কি না জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, আমার জানা মতে গত মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তারেক রহমান ট্র্যাভেল পাসের আবেদন করেননি।