পুরনো গ্যাস ক্ষেত্রেই নতুন সম্ভাবনা

৪ গভীর কূপে উচ্চচাপ, উচ্চ তাপমাত্রার ঝুঁকি নিয়ে গ্যাস অনুসন্ধানের নতুন পরীা

Printed Edition

আশরাফুল ইসলাম

দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসসঙ্কট মোকাবেলায় পুরনো গ্যাসত্রেগুলোর গভীর স্তরে নতুন গ্যাসের সন্ধানে জোরালো অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। প্রচলিত উৎপাদনশীল স্তরের নিচে সম্ভাব্য গ্যাসাধার খুঁজে বের করতে নেয়া হচ্ছে গভীর ও উচ্চঝুঁকির কূপখননের উদ্যোগ। এ েেত্র সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ভূগর্ভের উচ্চচাপ ও উচ্চতাপমাত্রার অঞ্চল। এসব স্তর নিরাপদে অতিক্রম করে সম্ভাব্য গ্যাসসমৃদ্ধ আধারে পৌঁছাতে প্রয়োজন হবে বিশেষায়িত প্রযুক্তি, সরঞ্জাম ও কঠোর চাপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশের বিদ্যমান গ্যাসসঙ্কটের সময়ে দেশে নতুন গ্যাসত্রে আবিষ্কারের পাশাপাশি পুরনো গ্যাসত্রেগুলোর গভীর স্তর অনুসন্ধানের গুরুত্বও বাড়ছে। দীর্ঘদিন উৎপাদনের ফলে অগভীর ও প্রচলিত গ্যাসাধারের উৎপাদন কমে আসায় একই কাঠামোর গভীরে থাকা সম্ভাব্য গ্যাসাধার এখন অনুসন্ধানের আওতায় আনা হচ্ছে। এ ধরনের গভীর খনন সফল হলে বিদ্যমান গ্যাস অবকাঠামো ব্যবহার করেই নতুন উৎপাদন যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

পেট্রোবাংলা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গভীর গ্যাস অনুসন্ধানের পরিকল্পনায় অন্তত চারটি কূপÑ তিতাস-৩১, বাখরাবাদ-১১, শ্রীকাইল-১ ও মোবারকপুর-১-বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এসব কূপের ল্য প্রচলিত গভীরতার নিচে গিয়ে সম্ভাব্য গ্যাসস্তর পরীা করা। এর মধ্যে তিতাস-৩১ সবচেয়ে বড় কারিগরি চ্যালেঞ্জের উদাহরণ। কূপটির ল্য গভীরতা প্রায় পাঁচ হাজার ৬০০ মিটার বা ৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার। প্রায় তিন হাজার ৭৫০ মিটার গভীরতার পর উচ্চচাপের সম্ভাব্য অঞ্চলে প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে।

তবে এখানে ‘উচ্চচাপের অঞ্চল’ বলতে একটি নির্দিষ্ট পুরুত্বের একক স্তর বোঝায় না। ভূতাত্ত্বিক কাঠামো, শিলাস্তরের বৈশিষ্ট্য, ভূগর্ভস্থ চাপ, তাপমাত্রা এবং গ্যাসাধারের অবস্থান অনুযায়ী গভীরতার সাথে চাপের মাত্রা পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে তিন হাজার ৭৫০ মিটার থেকে পাঁচ হাজার ৬০০ মিটার পর্যন্ত পুরো অংশকে একই মাত্রার উচ্চচাপের অঞ্চল বলা কারিগরিভাবে সঠিক নয়। বরং এই অংশকে উচ্চচাপ ও উচ্চতাপমাত্রার সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ গভীর খনন-অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করাই বেশি যুক্তিযুক্ত।

৫.৬ কিলোমিটার গভীরে তিতাস-৩১

তিতাস-৩১কে বাংলাদেশের গভীর গ্যাস অনুসন্ধানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কূপটির মোট ল্য গভীরতা প্রায় পাঁচ হাজার ৬০০ মিটার। কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন হাজার ৭৫০ মিটার অতিক্রম করার পর কূপটি উচ্চচাপের সম্ভাব্য স্তরে প্রবেশ করতে পারে।

অর্থাৎ এই গভীরতার পর আরো প্রায় এক হাজার ৮৫০ মিটার খনন করতে হবে। তবে ওই পুরো অংশে চাপ একই থাকবেÑ এমন ধারণা করা ঠিক নয়। বরং বিভিন্ন গভীরতায় চাপের মাত্রা পরিবর্তিত হওয়ার পাশাপাশি একাধিক সম্ভাব্য গ্যাসস্তরও পাওয়া যেতে পারে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তিতাস-৩১ এলাকায় সম্ভাব্য ভূগর্ভস্থ চাপ সর্বোচ্চ প্রায় ১৫ হাজার পাউন্ড প্রতি বর্গইঞ্চি (পিএসআই) পর্যন্ত হতে পারে। সম্ভাব্য তাপমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৩৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় ১৯৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই ধরনের পরিবেশে কূপ খনন সাধারণ গভীর কূপের তুলনায় অনেক বেশি জটিল।

উচ্চচাপ ও উচ্চতাপমাত্রার কারণে কূপের ভেতরের খনন তরল, কেসিং, সিমেন্ট, ড্রিলিং সরঞ্জাম এবং কূপমুখের চাপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নির্দিষ্ট কারিগরি মানদণ্ডে পরিচালনা করতে হয়। চাপের সামান্য ভুল হিসাবও কূপের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

১৫ হাজার পিএসআই চাপ, বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রস্তুতি

গভীর উচ্চচাপের কূপখননের অন্যতম বড় ঝুঁকি হলো ভূগর্ভস্থ গ্যাস বা তরল অনিয়ন্ত্রিতভাবে কূপের মধ্যে প্রবেশ করা। কূপের ভেতরের চাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ‘কিক’ থেকে শুরু করে গুরুতর ব্লোআউটের মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এই ঝুঁকি মোকাবেলায় তিতাস-৩১ কূপে প্রায় ১৫ হাজার পিএসআই চাপ সহনশীল ব্লোআউট প্রিভেন্টর (বিওপি) ব্যবস্থার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কূপমুখে স্থাপিত এই নিরাপত্তা সরঞ্জাম জরুরি পরিস্থিতিতে কূপ বন্ধ রাখা এবং অনিয়ন্ত্রিত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তবে উচ্চমতাসম্পন্ন বিওপি থাকলেই কূপের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। খনন তরলের ঘনত্ব, কূপের ভেতরের চাপ, কেসিংয়ের গভীরতা, সিমেন্টের গুণমান, চাপের পরিবর্তন এবং ভূগর্ভস্থ গ্যাসের প্রবাহ-সবকিছু একসাথে পর্যবেণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। বিশেষ করে উচ্চচাপ-উচ্চতাপমাত্রার কূপে সরঞ্জামের সমতার পাশাপাশি দ জনবল ও তাৎণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সমতাও গুরুত্বপূর্ণ।

গভীরে একাধিক সম্ভাব্য গ্যাসস্তর

তিতাস কাঠামোর গভীরে একাধিক সম্ভাব্য গ্যাসসমৃদ্ধ স্তরের তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি সম্ভাব্য স্তর প্রায় তিন হাজার ৭৩৬ থেকে তিন হাজার ৭৬৫ মিটার গভীরতায় এবং আরো গভীর একটি সম্ভাব্য স্তর প্রায় পাঁচ হাজার ৩১৫ থেকে পাঁচ হাজার ৩৪৪ মিটার গভীরতায় অবস্থান করতে পারে।

এ কারণে তিতাস-৩১ শুধু একটি নির্দিষ্ট গ্যাসাধার পরীার কূপ নয়; গভীরতার বিভিন্ন স্তরে সম্ভাব্য গ্যাসের উপস্থিতি যাচাইয়ের সুযোগও তৈরি করছে। বিশেষ করে ভূবান ও বড়াইল স্তরের গভীর গ্যাসাধারকে সম্ভাব্য ল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কূপটি সফল হলে পুরনো তিতাস গ্যাসেেত্রর উৎপাদনসমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের গভীর ভূগর্ভে গ্যাসের মজুদ সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এমনকি বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য গ্যাস না মিললেও গভীর স্তরের চাপ, তাপমাত্রা, শিলাস্তর ও গ্যাসের উপস্থিতি সম্পর্কে পাওয়া তথ্য ভবিষ্যৎ অনুসন্ধানের জন্য মূল্যবান হয়ে উঠতে পারে।

শুধু তিতাস নয়, তালিকায় আরো ৩ গভীর কূপ

গভীর উচ্চচাপ ও উচ্চতাপমাত্রার কূপ খননের পরিকল্পনা তিতাস-৩১-এ সীমাবদ্ধ নয়। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শ্রীকাইল-১, মোবারকপুর-১ এবং বাখরাবাদ-১১ কূপও এই অনুসন্ধান কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বাখরাবাদ-১১ কূপের প্রস্তাবিত গভীরতা প্রায় চার হাজার ৩৬০ মিটার। প্রায় তিন হাজার ৭০০ থেকে চার হাজার মিটার গভীরতার অঞ্চলে উচ্চচাপের শিলাস্তর পাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে এই উচ্চচাপের সম্ভাব্য অঞ্চলের সুনির্দিষ্ট বিস্তার বা পুরুত্ব নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। অন্যদিকে শ্রীকাইল-১ কূপের প্রস্তাবিত গভীরতা প্রায় পাঁচ হাজার ৩০০ মিটার, যা প্রায় ১০০ মিটার পর্যন্ত কমবেশি হতে পারে। এটিও গভীর উচ্চচাপ ও উচ্চতাপমাত্রার সম্ভাবনাময় কূপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মোবারকপুর-১-এর প্রস্তাবিত গভীরতা প্রায় পাঁচ হাজার ১০০ মিটার। অর্থাৎ চারটি কূপের মধ্যে একাধিক কূপই প্রচলিত অনুসন্ধান কূপের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে গভীর।

এই চারটি কূপের েেত্র একটি বিষয় স্পষ্ট গভীর গ্যাসাধার অনুসন্ধানের সাথে সাথে দেশের ড্রিলিং প্রযুক্তি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সমতাও পরীা হবে।

উচ্চচাপের ‘পুরুত্ব’ নির্ধারণ এত সহজ নয়

গভীর কূপ নিয়ে সবচেয়ে স্বাভাবিক প্রশ্নগুলোর একটি হলো-উচ্চচাপের অঞ্চল কত কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত? ভূতাত্ত্বিকভাবে এর সরল কোনো উত্তর নেই। ভূগর্ভের উচ্চচাপ একটি নির্দিষ্ট সমান্তরাল স্তর নয়, যার ওপর ও নিচের সীমানা নির্ধারণ করে সহজেই পুরুত্ব বের করা যায়। একই কূপের মধ্যেও গভীরতার সাথে চাপের মাত্রা পরিবর্তিত হতে পারে। কোথাও চাপ ধীরে বাড়তে পারে, আবার কোনো নির্দিষ্ট স্তরে হঠাৎ চাপের পরিবর্তন ঘটতে পারে।

এ কারণে কূপ খননের আগে ভূকম্পন জরিপ, আশপাশের পুরনো কূপের তথ্য, ভূগর্ভস্থ চাপের পূর্বাভাস এবং খননের সময় পাওয়া নতুন তথ্য একত্রে বিশ্লেষণ করা হয়। খনন যত গভীরে যায়, বাস্তব ভূতাত্ত্বিক তথ্যের ভিত্তিতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কৌশলও তত পরিবর্তন করতে হতে পারে।

সুতরাং তিতাস-৩১-এর েেত্র তিন হাজার ৭৫০ থেকে পাঁচ হাজার ৬০০ মিটার পর্যন্ত পুরো অংশকে ‘এক হাজার ৮৫০ মিটার পুরু উচ্চচাপের অঞ্চল’ বলা কারিগরিভাবে বিভ্রান্তিকর হতে পারে। বরং বলা যায়, প্রায় তিন হাজার ৭৫০ মিটারের পর থেকে কূপটি উচ্চচাপ ও উচ্চতাপমাত্রার সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ গভীর স্তরে প্রবেশ করবে।

পুরনো গ্যাসেেত্রই নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশে নতুন গ্যাসত্রে আবিষ্কারের পাশাপাশি পুরনো গ্যাসেেত্রর গভীর স্তর অনুসন্ধানের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। দীর্ঘদিন উৎপাদনের ফলে বিদ্যমান অগভীর বা প্রচলিত গ্যাসস্তরগুলোর উৎপাদন কমে আসার প্রোপটে একই ভূতাত্ত্বিক কাঠামোর গভীরে থাকা সম্ভাব্য গ্যাসাধার এখন নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

এই কৌশলের বড় সুবিধা হলো-গ্যাস পাওয়া গেলে বিদ্যমান অবকাঠামোর একটি অংশ ব্যবহার করে তুলনামূলক দ্রুত উৎপাদনে যাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। গ্যাসেেত্রর আশপাশে পাইপলাইন, সংগ্রহব্যবস্থা, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংযোগ অবকাঠামোর কিছু অংশ আগে থেকেই থাকায় নতুন গ্যাসেেত্রর তুলনায় অতিরিক্ত অবকাঠামোগত ব্যয় কমানোর সুযোগও থাকতে পারে।

তবে এর বিপরীত দিকও রয়েছে। গভীর কূপ খননে সময় ও ব্যয় দু’টিই বেশি। উচ্চচাপ ও উচ্চতাপমাত্রা মোকাবেলায় উন্নতমানের কেসিং, সিমেন্ট, খনন তরল, ড্রিলিং সরঞ্জাম ও কূপমুখের নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। কোনো পর্যায়ে খনন জটিল হয়ে পড়লে প্রকল্পের সময় ও ব্যয় উভয়ই বাড়তে পারে।

গ্যাসসঙ্কটের সময়ে বড় পরীা

দেশের শিল্প, বিদ্যুৎ ও সার খাতে গ্যাসের চাহিদা দীর্ঘদিন ধরেই সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি করছে। দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়ার ফলে আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) দিয়ে ঘাটতি সামাল দেয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য, বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় এবং সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে আমদানিনির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

এই বাস্তবতায় দেশীয় গ্যাসের নতুন মজুদ অনুসন্ধান শুধু জ্বালানি খাতের একটি প্রকল্প নয়; এটি অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিতাস-৩১, বাখরাবাদ-১১, শ্রীকাইল-১ ও মোবারকপুর-১ সেই অনুসন্ধানের নতুন ধাপ। তবে সাফল্যের মাপকাঠি শুধু কূপকে ৫ বা ৬ কিলোমিটার গভীরে নিয়ে যাওয়া নয়। প্রকৃত সাফল্য হবে নিরাপদে খনন শেষ করে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসাধার আবিষ্কার এবং তা অর্থনৈতিকভাবে উৎপাদনে আনা।

তিতাস-৩১-এর েেত্র প্রায় ৩ দশমিক ৭৫ কিলোমিটারের পর থেকে ৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার পর্যন্ত যাত্রা তাই নিছক আরেকটি কূপ খননের কাজ নয়। এটি বাংলাদেশের গভীর ভূগর্ভে গ্যাসের সম্ভাবনা যাচাইয়ের একটি বড় পরীা।

প্রায় ১৫ হাজার পিএসআই পর্যন্ত সম্ভাব্য চাপ এবং প্রায় ১৯৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার কঠিন পরিবেশ অতিক্রম করে যদি প্রত্যাশিত গ্যাসাধার পাওয়া যায়, তাহলে পুরনো গ্যাসেেত্রর গভীর স্তরই হয়ে উঠতে পারে দেশের গ্যাস সরবরাহের নতুন উৎস।

আর যদি বাণিজ্যিক গ্যাস না-ও পাওয়া যায়, তবু এই কূপগুলো থেকে সংগৃহীত ভূতাত্ত্বিক ও ভূগর্ভস্থ চাপ-তাপমাত্রার তথ্য ভবিষ্যৎ গভীর গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে থাকবে। ফলে চার গভীর কূপের এই উদ্যোগের আসল মূল্য শুধু সম্ভাব্য গ্যাসের পরিমাণে নয়; বাংলাদেশের গভীর ভূগর্ভকে কতটা নিরাপদ, বৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিকভাবে কাজে লাগানো যায়Ñ তার উত্তরও মিলবে এই অনুসন্ধানে।