আলজাজিরা
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ পার হওয়ার পর থেকেই রণকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের স্পষ্ট আভাস দিচ্ছে তেহরান। পেন্টাগন যদি ইরানি ভূখণ্ডে কোনো ধরনের পদাতিক বা স্থল অভিযানের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে এতদিন ধরে রাখা প্রতিরক্ষামূলক নীতি ঝেড়ে ফেলে সর্বাত্মক আক্রমণাত্মক কৌশলে যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী।
ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের বক্তব্য ও বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শত্রুপক্ষকে চমকে দিতে তারা বেশ কিছু বহুমুখী সামরিক পরিকল্পনা সাজিয়েছে। প্রথমত, আইআরজিসির রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধানের ইঙ্গিত অনুযায়ী, তেহরান এখন ‘কৌশলগত চমক’ বা এগ্রেসিভ অফেনসিভ যুদ্ধনীতি গ্রহণ করবে। মার্কিন বাহিনী সীমানা অতিক্রম করার চেষ্টা করলে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বাহরাইন ও কুয়েতের মতো প্রতিবেশী দেশে থাকা আমেরিকান সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে সরাসরি হামলা চালানোর পাশাপাশি প্রক্সি বাহিনীর মাধ্যমে পাল্টা স্থল অভিযান শুরু হতে পারে। দ্বিতীয়ত, মূল ভূখণ্ড কিংবা কৌশলগত দ্বীপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। তেল রফতানির প্রাণকেন্দ্র খারগ দ্বীপসহ হরমুজ প্রণালীর উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বিপুল সেনাসমাবেশ ও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সেনাসূত্রের সাফ বার্তা, মার্কিন বাহিনীর কোনো সদস্য ইরানি সীমানায় নামামাত্রই তাদের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ভারী গোলাবর্ষণে ধ্বংস করা হবে।
তৃতীয়ত, পুরো অঞ্চলে বিস্তৃত মার্কিন জ্বালানি নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে সর্বাত্মক আঘাত হেনে পেন্টাগনের অবকাঠামো অচল করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, ভৌগোলিক সুবিধার পূর্ণ ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদী গেরিলা যুদ্ধের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। ফার্স প্রদেশ বা জাগরোস পর্বতমালার পাহাড়ি দুর্গম পথ দিয়ে আমেরিকান বাহিনীর অগ্রযাত্রা রুদ্ধ করতে ভূগর্ভস্থ অস্ত্রাগার ও গেরিলা কৌশলকে কাজে লাগাবে তেহরান। সেনাসদস্যদের আত্মবল উন্নত রাখতে মার্কিন সেনাদের হত্যা বা বন্দী করতে পারলে আর্থিক পুরষ্কারের মতো বৈপ্লবিক ঘোষণাও এসেছে মনস্তাত্ত্বিক কৌশলের অংশ হিসেবে। যদিও এখন পর্যন্ত পেন্টাগনের সরাসরি স্থল অভিযানের দৃশ্যমান প্রস্তুতি কম, তবুও ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা স্থবির থাকা এবং হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে জল ঘোলা হতে থাকায় তেহরান নিজ মাটিতে প্রতিপক্ষকে কাবু করতে সামরিকভাবে অল-আউট যুদ্ধের প্রস্তুতিই নিয়ে রাখছে।
ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ঠেকানোয় অনড় যুক্তরাষ্ট্র
এএনআই জানায়, ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেয়া হবে না বলে মার্কিন প্রশাসনের শক্ত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন হোয়াইট হাউজের দূত ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। তেল আবিবে ফক্স নিউজকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তেহরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সম্ভাব্য কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রধান শর্তাবলি প্রকাশ্যে আনেন।
কুশনার উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বার্তা অত্যন্ত পরিষ্কার এবং তা হলো- পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হওয়ার কোনো অধিকার ইরানের নেই। তবে তেহরানের সাথে একটি যুক্তিযুক্ত ও দ্বিপক্ষীয় সুবিধাজনক সমঝোতায় পৌঁছাতে মার্কিন প্রশাসন এখনো প্রস্তুত বলে জানান তিনি। মার্কিন দূতের মতে, যেকোনো চুক্তির পূর্বশর্ত হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্রের বিকাশ ঘটাতে পারে এমন সব কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত করতে হবে ইরানকে। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠী ও সশস্ত্র তৎপরতায় আর্থিক সমর্থন জোগানো অবিলম্বে বন্ধ করার শর্ত জুড়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপড়েন ও সামরিক উত্তেজনার আবহেই কুশনারের এই মন্তব্য এলো, যা তেহরানের সাথে পরবর্তী যেকোনো আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর মনোভাবের বার্তা দিচ্ছে।



