রফিকুল হায়দার ফরহাদ, কানাডা থেকে
টানা তিন ম্যাচে পাঁচ গোল হজম। ফিফা র্যাংকিংয়ে এক নম্বরে অবস্থান। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নও তারা। তাদের জালেই পাঁচ গোল দিয়েছে জর্দান, কেপ ভার্দে ও মিসর। এশিয়ার দেশ জর্দান কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে না পারলেও দুই আফ্রিকান দেশ একেবারে নাকানি-চোবানি খাইয়ে ছেড়েছে আর্জেন্টিনাকে। যদিও শেষ পর্যন্ত কোনো মতে জয় নিয়ে এখন কোয়ার্টার ফাইনালে লিওনেল মেসিরা। কেপ ভার্দের বিপক্ষে দুই দফা লিড নিয়েও তা ধরে রাখতে পারেনি তিনবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা। আর মিসরের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে এরপর সমতা আনা এবং পরে জয়সূচক গোল। কেপ ভার্দের বিপক্ষে তাদের পার করেছিলেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। আর পরের দিন এনজো ফার্নান্দেজ। দুই নকআউটের ম্যাচে দুই ভিন্ন প্রেক্ষাপটে জয় তুলে নেয়া। যে পারফরম্যান্স কোনোভাবেই তাদের কাছে প্রত্যাশিত ছিল না। এর পরও টানা পাঁচ জয় এবং দুই বিশ্বকাপ মিলে ১১ জয়। দুই বড় ধাক্কার পর কি আর্জেন্টিনা পার করতে পেরেছে, তাদের বাজে সময়টা।
এবারের মেক্সিকো, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে মেসিরা এখন যদি আগামী তিন ম্যাচ খেলতে পারে তাহলে তাদের সব প্রতিপক্ষই ইউরোপিয়ান হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। দুই আফ্রিকান দল তাদের যেভাবে বিপদে ফেলেছিল সেই ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলতে না পারলে সামনে এগুনো বেশ কঠিনই হবে। মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের পর অধিনায়ক লিওনেল মেসি বলেছিলেন, ‘দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর বেশ বাজে অবস্থায় ছিলাম। এর পরও সবার প্রচেষ্টার ফলে এই বাধা ডিঙাতে পেরেছি।’
আর্জেন্টিনার এই নড়বড়ে অবস্থাটা গত বিশ্বকাপেও ছিল। সৌদি আরবের বিপক্ষে লিড নিয়েও হেরেছিল। দ্বিতীয় রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর এক গোল পরিশোধ করে সকারুজরা। এরপর আর্জেন্টিনাকে ভীষণ চাপে ফলে দেয় তারা। একেবারে শেষ সময়ে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দুর্দান্ত এক সেভ দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে নিয়ে যায়। শেষ আটের সেই ম্যাচেও শেষ দিকে করুণ দশা। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দুই গোলে এগিয়ে গেলেও এক পর্যায়ে স্কোর ২-২ করে ফেলে ডাচরা। ফলে ল্যাটিন দেশটিকে টাইব্রেকারে জিততে হয়। তা গোলরক্ষক মার্টিনেজের কৃতিত্বে।
সেমিতে ক্রোয়েশিয়ান বাধা সহজে অতিক্রম করলেও ফাইনালে সেই পুরনো চিত্র। দুই গোলে লিড নেয়ার পর ফ্রান্স তা ২-২ করে ফেলে। পরবর্তীতে খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে সেখানে মেসিরা আবার লিড নেয়। সেই লিডও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। কিলিয়ান এমাবাপ্পের হ্যাটট্রিকে স্কোর ৩-৩। বাকিটা টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার তৃতীয় শিরোপা জয়ের কাহিনী।
কাতারে আর্জেন্টিনা ব্যাড ডে পার করেছিল সৌদি আরবের বিপক্ষে। এরপর টানা জয়। এবার এখনো হারেনি। অবশ্য নকআউট পর্বে হারলেই সব শেষ। তাই যদি কেপ ভার্দে ও মিসরের বিপক্ষে খেলা দুই ম্যাচকে আর্জেন্টিনার বাজে সময় বা ব্যাড ডে বলে ধরে নেয়া হয়, তাহলে এখন তাদের সাবলীলভাবে এগিয়ে যাওয়ার কথা। কোয়ার্টারে সুইজারল্যান্ড বাধা পেরুনো। এরপর সেমিফাইনাল ও ফাইনাল। তবে এখনো যদি তাদের ব্যাড ডে অপেক্ষা করে, পিছু না ছাড়ে তাহলে ইউরোপিয়ান দলগুলোই তাদের চূড়ান্ত হতাশায় ডোবাবে।



